View Sidebar

স্বাগতম!

এসএসসি পাশ করবার পর থেকেই কম্পিউটার ভুত মাথায় চাপে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি তথ্য প্রযুক্তির সাথে থাকতে। চেষ্টা করেছি অনেক কিছুই করতে। কিন্তু সফলতা এখনো পাইনি। তবে লেগে আছি সফলতা হয়ত একসময় আসবে। ব্যার্থতা আর ভুল আছে প্রচুর। তারপরেও হাল ছেড়ে দেইনি। সব ভুল আর ব্যার্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে চাই। তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি আগ্রহ আছে রাজনীতিতেও।
NIHRD এবং আমার কৃতজ্ঞতা!

NIHRD এবং আমার কৃতজ্ঞতা!

NIHRD বা National Institute of Human Resource Development এর যাত্রা শুরু ২০০৯ সালে Albatross Technologies Limited এর অফিস থেকে। এর শুরুর পিছনে যে ইচ্ছেটুকু কাজ করেছিল তা হল আইটি ইন্ডাস্ট্রি’র জন্য দক্ষ্য জনশক্তি গড়ে তোলা। ২০০৮ শুরুর দিকে Albatross এর জন্য আমরা Flash Game Developer খুচ্ছিলাম Netherlands এর ক্লায়েন্ট এর জন্য। কিন্তু একজন ফ্ল্যাশ ডিজাইনার ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই ডিজাইনার এবং PHP প্রোগ্রামারদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রথম Game আমরা ডেলিভারি করেছিলাম ৪ (চার) মাস পর। এই চার মাস শেখা এবং ডেভালপমেন্ট একসাথেই চলছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই NIHRD এর চিন্তা – ভাবনা শুরু।

২০০৯ সালে’র জুন মাসে ইফতেখার হোসাইন, খন্দকার আস-আদ মোস্তফা, রাসেল, নেয়ামত উল্লাহ এবং হাসিবুল হাসান খান কে নিয়ে NIHRD কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম আলো এবং পাঞ্জেরী শিক্ষা সংবাদে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। NIHRD এর প্রথম ছাত্র হাসিব বিন সিদ্দিক রিফাত। রিফাত পরবর্তীতে Albatross এ web designer হিসেবেও কাজ করে।

কম্পিউটার সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছাড়াও যেন শিক্ষিত তরুন প্রোগ্রামিং এ আসতে পারে সেটাই ছিল লক্ষ্য। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে ফ্রীল্যন্সার আজ কাজ করছে। সুযোগ রয়েছে আরো তরুনের ফ্রীল্যন্সার হিসেবে কাজ করবার। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও কারিগরী জ্ঞান সম্পন্ন জনশক্তির অভাব তো রয়েছেই। আমাদের ইচ্ছা ছিল এই ঘাটতি পূরন করায় কিছু কাজ করা। আরেকটা মূল ইচ্ছে ছিল উদ্যোক্তা তৈরি করা।  যেমন একজন ছাত্র আমাদের এখানে ট্রেনিং নেয়ার পর আমাদের সাথে কাজ করবে, পরবর্তীতে আমাদের সাথে সে একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আমাদের অংশীদার হবে (অর্থাৎ আমরা তাকে একটি সাইট করে দিব, সে মার্কেটিং করবে আমরা প্রফিট ভাগাভাগি করব), পরবর্তীতে সে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করবে। চারটি ধাপে সে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার সুযোগ পাবে।

শুরুটা আমাদের মোটামুটি ছিল মাঝে কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে বিভিন্ন ঝামেলা এবং মূল প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার কারনে। যাই হোক আবার NIHRD কে দ্বার করাবার চিন্তা ভাবনা করি এবং ২০১১ তে আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে আমার বন্ধু মাহাবুব হাসান (হিমু) সে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় নাজমুল হাসান নাহিদ, এ টি এম তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার সাথে। তাদের সাথে আমি আমার পরিকল্পনা শেয়ার করি। তারা এতে আগ্রহ দেখায়। কয়েকটা মিটিং এর পর আমরা একসাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর তাদের সাথে এসে যোগ দেয় মাহাদী হাসান, নিক্সন চৌধুরী এবং নুর এ আলাম শাহীন। আর প্রথম থেকেই ছিল আমার বাল্য বন্ধু নাজমুল আলম সুমন। ২য় বারের শুরুটা আমাদের অনেকটা ধুমকেতুর মত ছিল। খুব অল্প সময়ে আমরা ৩০০ জন ছাত্র পেয়ে যাই। স্বপ্ন দেখতে শুরু করি আরো বড় সফলতার। একটি ভাল মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে গড়ে তোলার। এর মাঝে আমাদের নিজেদের টীম স্পিরিট এমন দাড়ালো যা অসম্ভব রকমের সফল। এরকম একটা টীমের জন্য যে কেউ হিংসা করতে পারে।

কিন্তু সে সফলতা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। কারন আমাদের কিছু সিধান্তহীনতা এবং ভুল। যে গুলোর কারনে আমি আজ খুব অনুশোচনা করছি। কিন্তু শিক্ষা পেয়েছি। শিখেছি অনেক কিছু। হয়ত পরবর্তী সময়ে তা খুব কাজে লাগবে। আর যেহেতু আমিই ছিলাম নেতৃত্বে তাই সমস্ত দায় আমারই। তবে পেয়েছি অনেক কিছু, ভালোবাসা- সম্মিলিতভাবে সামনে এগুবার শক্তি। আমার ব্যার্থতাটা এটাই যে শেষ পর্যন্ত আমি তা ধরে রাখতে পারিনি। তবে বিশ্বাস করি এই হোঁচট খেয়ে পড়াটা আমার জন্য ভাল হয়েছে। নিজের দূর্বলতা গুলো সনাক্ত করা সহজ হয়েছে। আমি কিকি শিখেছি তা অন্য কোন একতা লেখায় আমি লিখব।

দুটো বছরে, আমি যাদের আমার সাথে পেয়েছি তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এর মাঝে অবশ্য আমি একজন শত্রু পেয়েছি যে ঘোষনা করছে আজীবণ সে আমার বিরোধিতা করবে। তাতে অবশ্য আমার লাভ হয়েছে সে প্রকৃত ভাবেই আমার উপকার করবে। কোন ভুল করতে গেলে তার কথা মনে হবে এবং আমি সাবধান হয়ে যাব। আমার বিন্দু মাত্র রাগ বা ক্ষোভ তার প্রতি নেই। আমি চাই সে করুক, কারন সমালোচনাই আমাকে সঠিক পথে এগুতে সাহায্য করবে।

আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ-  নাজমুল আলম সুমন, আসিফ আনোয়ার পথিক, আবুল কাশেম ভাই, নাজমুল হাসান নাহিদ, এ টি এম তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, মাহাদী হাসান, নুর এ আলাম শাহীন, নাহিদ হাসান সুজন, নিক্সন চৌধুরী, রাসেল, জুয়েল, সাইদুল ইসলাম, তুষার পাপ্পু, তৌহিদ রনি, বিথী, রিফাত বিন সিদ্দিকী, খান হেলালুজ্জামান অয়ন, নেজাউর রহমান খান সহ আরো অনেকে (যাদের নাম করতে পারছি না দুঃখিত)।

September 22, 20130 commentsRead More
ক্ষোভের বিষ!

ক্ষোভের বিষ!

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি প্রকাশণায় আছে “ক্ষোভ হচ্ছে এমন একটা বিষ যা সে নিজে পান করছে কিন্তু প্রত্যাশা করছে প্রতিপক্ষ মারা যাবে। রাগ প্রকাশ না করে পুষে রাখলেই তা ক্ষোভে পরিণত হয়। অর্থাৎ যে রাগ আমরা অন্যের ওপর প্রকাশ করতে পারি না কারণ তিনি আমার চেয়ে শক্তিমান তাই আমাদের মনে জমে থাকে ক্ষোভ হিসেবে। রাগ আমরা তার সাথেই দেখাই যে প্রতিপক্ষ হিসেবে দুর্বল। 

আমরা বাংলাদেশের জনগন এই ক্ষোভের বিষ পান করেছি এবং অকাতরে মারা যাচ্ছি। দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল এই ক্ষোভের বিষের মূল কারণ। প্রত্যেকটি মানুষ এই দুই দলের হাত থেকে মুক্তি চায়। দুটি দল – দুটি রাজ বংশ। একজন বাবা’র উত্তরাধিকার সূত্রে, আরেকজন স্বামী’র মৃত্যুতে দুটি রাজ-বংশ/রাজ-দলের রানী হয়ে বসেছে। দুই রাজ পরিবারের ক্ষমতার লোভ এবং হিংসার আগুনে বাংলাদেশের মানুষ পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে।

এমন কোন চায়ের দোকান নেই, এমন কোন আড্ডা নেই যেখানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয় না। একটা সময় মানুষ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে করতে নিজেদের মধ্যে মারামারি লাগিয়ে দিত। তাই পাড়ার পুরির দোকান, বা চা এর দোকানে লেখা থাকত “রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ”।

এখন এধরনের লেখা আর চোখে পড়ে না, কারণ মানুষ এখন দল নিয়ে আলাপ শুরু করলেও, শেষের দিকে এসে বলে আসলে এই দু’দলের  কোন দলকেই চাই না।। রাজনৈতিক আলাপ মানেই – এই দুই মহিলা বা এই দুই দলের হাত থেকে মুক্তি। দল এটা ভাল করেছে, ওটা খারাপ করেছে – এর থেকে এখন প্রাধান্য পায় ব্যক্তি কি করেছে। ফালু-আবুল-মুহিত-মির্জা-পিন্টু-শফিক এভাবেই নামগুলো ঘুরে ফিরে আসে। এবং মানুষ ঘৃনার সাথে নামগুলো উচ্চারন করে।

রাজদরবারের মন্ত্রী, এলাকা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সাস্ত্রীগণ সবাই রাজরানীদের গুনকীর্তনে ব্যতিব্যাস্ত। আসলে রাজরানীদের সুনজরে থাকা মানেই কাড়ি কাড়ি টাকা পয়সা বানাবার সু্যোগ। এই ইদুঁর দৌড়ে জীবন দিতেও এদের বাধে না। অথবা এরা বুঝেই না কোন সময় জীবনটা চলে গেল! এতে অবশ্য রানীদের মাথাব্যথা নেই – কত এরকম জীবণ যাবে, আবার নতুন কেউ আসবে জীবণ দিতে। তাদের কিছু এসে যায় না। তাদের ছেলে মেয়েরা নিরাপদেই থাকেন, কোন মায়ের বুক খালি হল -তাতে তাদের কি? তাদের বুক ত আর খালি হবার নয়। তোষামদী এমন চলে যে, রাজরানীগণ সত্য-মিথ্যার ফারাক করতে পারেন না।

একটা গল্প শুনেছিলাম ছোটবেলায়। কেরামত পাগলার গল্প। কেরামত পাগলা নাকি আল্লাহর ওলি ছিলেন, তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত তাকে দেখতে এবং তিনি যেখানে বসতেন বা যেখানে হাত রাখতেন সেখানকার মাটি নিয়ে যেত রোগ মুক্তি বা ইচ্ছা পূরনের আশায়। শেষ পর্যন্ত তার মল-মুত্র নেয়া শুরু করে মানুষ। তো আমাদের মন্ত্রী-এমপি-দলীয় লোকজনের অবস্থা এমন যে তারাও পারলে রাজরানী এবং তার বংশধরদের মল-মুত্র পকেটে করে নিয়ে যেতে দ্বীধা করবেন না। তারা তাই করছেন!!

এসব দেখতে দেখেতে বাংলাদেশের মানুষ ধৈর্য্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে, কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ তারা আমাদের চাইতে শক্তিমান। রাগ দেখাই আমাদের থেকে যারা দূর্বল তাদের উপর। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার চুরি করে ধরা পরলে, মালিকের সাথে সাথে আমরাও উত্তম মাধ্যম দেই, আর রাগ ঝারি। কারণ আমরা ক্ষোভের বিষ পান করেছি। কারন রাজ পরিবারের ক্ষমতার কাছে আমরা অসহায়।

যেহেতু ক্ষোভের বিষ পান করেছি তাই অন্যের মৃত্যু কামনা করি- আর নিজেরাই মরি। গতকাল ফেসবুকে একটা স্ট্যটাস দিয়েছিলাম “মায়া কান্নার সময় নেই। মায়া কান্নায় লাভও নাই। ৪২ বছর পদদলিত হয়েছি নষ্টা রাজনীতিবিদদের হাতে। আরো হব যদি এদের পিছনেই থাকি। বাংলাদেশের মানুষের ঘুম ভাঙ্গেনি। ঘুম ভাঙ্গার আশায় আর কত কাল পার করতে হবে কে জানে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নামে মানুষ অন্ধ ছিল গত ৪২টা বছর, হয়ত আরো থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, এবার ঘুরে দাড়াতে হবে। নষ্টাদের কেটে ফেলতে হবে। মিষ্টি কথা, আর আপোষ আর নয়। বিপ্লবের পথেই হাটতে হবে, মেরে ফলতে হবে সমস্ত নষ্ট রাজনীতিবিদদের। বাদ যাবেনা হাসিনা-খালেদা। ধিক্কার নয়, সোজা বাংলায় পস্রাব করি এদের মুখে।

এবং ক্ষোভের বিষ পান করেছি বলেই, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ, সমস্ত বর্তমান এবং সাবেক মন্ত্রী, সমস্ত সাবেক ও বর্তমান এমপি সহ সমস্ত রাজনৈতিকদলের নেতাদের মৃত্যু কামনা করছি।

এদের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তি আসু কাম্য।

July 16, 20130 commentsRead More
স্বাধীনতার পরবর্তী ৪২ বছর এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পরবর্তী ৪২ বছর এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশ

১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর যে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে তার চেতনা নিহিত ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের ঘটনা প্রবাহে। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবণ দিয়েছেন এবং ২ লক্ষ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন এই চেতনার জন্য এবং স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন স্বাধীন বাংলাদেশের। মুক্তিযোদ্ধারা জীবণ বাঁজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছেন নতুন দেশ – সোনার বাংলাদেশ গড়বার আশায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজও স্বপ্নই রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পরেও স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি এতটুকু। এখনও আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখবার জন্য। নতুন প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, যারা কখনও মিছিলে বা সমাবেশে যায়নি তারা আজ রাস্তায় নেমে এসেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী নিয়ে। ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণকারী রাজনৈতিক দল গুলো যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কে সবসময়ই নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে। কোন পক্ষই মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট কে সম্মান দেখায়নি। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে দালাল আইনের সাধারণ ক্ষমাকে ভুল ভাবে ব্যাখা প্রদানের কারণেই এর সূত্রাপাত। ভুল অনেক হয়েছে-আর নয়। এখন সময় সামনে এগুবার। ভুল নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। অনেক দোষারোপও হয়েছে। এগুলো করতে করতে আমরা আজ বাংলাদেশকে ধংসের দ্বারপ্রান্তে এনে দাড় করিয়েছি। সামনে এগুবার জন্যই আমাদের ইতিহাস মনে রাখতে হবে-মনে রাখতে হবে ঘটনাপ্রবাহ। আর এই ঘটনাপ্রবাহ ধরে এগিয়ে গিয়ে আমাদের ভবিষ্যত বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং দিতে হবে একটি সুন্দর রূপরেখা।আমরা এখানে বাংলাদেশের ৪২ বছরের ঘটনাপ্রবাহ বা টাইমলাইন দিয়ে যাব এর পর আমাদের মতামত দেবার চেষ্টা করব কিভাবে ইতিহাসের ভুলগুলো থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারি।

১। বংগবন্ধুর সাধরণ ক্ষমাকে পূঁজি করে জিয়াউর রহমান ১১,০০০ হাজার চিহ্নিত -কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে রাজনিতীতে পূনর্বাসনের সুযোগ দিয়েছে। এখনও যুদ্ধাপরাধীরা এই সাধরন ক্ষমাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

[সাধারন ক্ষমা কি……………১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর দালাল আইনে আটক ৩৭ হাজারের অধিক ব্যক্তির ভেতর থেকে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পায়। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়, ‘যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত ধারা মোতাবেক কোনটি অথবা সব ক’টি অভিযোগ থাকবে। ধারাগুলো হলো: ১২১ (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), ৩০২ (হত্যা), ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), ৩৬৩ (অপহরণ),৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ),৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), ৩৯৫ (ডাকাতি), ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি),৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্মক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধন),৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতিসাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।’]

২। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আন্দোলন এবং গণ আদালত। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতশ্রুতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আশ্বাস, কিন্তু ৯৬ তে সরকার গঠন করেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু না করা। অন্যদিকে ঐ সময়ে তত্তাবধায়ক সরকারের দাবীতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জামাতকে সহযোগী হিসেবে আওয়ামী লীগের স্বীকৃতি।

[১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০১ সদস্যবিশিষ্টএকাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয় জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। তিনি হন এর আহ্বায়ক। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ’গণআদালত’ এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।]

৩। ২০০০ সালে বিএনপি জামাতকে নিয়ে চার দলীয় জোট গঠন এবং ২০০১ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে জামাতকে মন্ত্রীত্ব প্রদান।

৪। ২০০৮ এর নির্বাচনে আবারো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতুশ্রুতি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভ ও ২০১২ সালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু।

৫। ২০১৩ কসাই কাদেরের বিচারের রায়ে সমঝোতার আভাস। আপসের বিচার নয়, যদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবীতে ব্লগারদের মানব বন্ধন থেকে গণজাগরণ মঞ্চ- প্রজন্ম চত্বরের আত্মপ্রকাশ।

৬। প্রথম দিকে গণজাগরণ মঞ্চে কোন রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত হতে না দেয়ার ফলে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারনের অকুন্ঠ ভালবাসা এবং সমর্থন পায়। বিএনপি প্রথম দিকে এটাকে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি বললেও পরবর্তীতে নতুন প্রজন্মের নিরপেক্ষ আন্দোলন হিসেবে স্বীকার করে নেয়। তারপর কি হল? শুরু হল রাজনীতি। নতুন প্রজন্মের এ জেগে ওঠাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন সবাই। জাগরণ মঞ্চকে রাতারাতি আওয়ামী করণ করা হল এবং বিতর্ক উস্কে দেয়া হল ধর্মের ভিত্তিতে। ঢালাওভাবে ব্লগারদের এবং গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিক বানিয়ে দেয়া হল। ৮৪ জনের তালিকা দেয়া হল এবং সৌভাগ্য বশত এই তালিকা থেকে বাদ গেলেন নেতা বনে যাওয়া ডাঃ ইমরান এইচ সরকার, অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবতিক’রা।

৭। ময়দানে আবির্ভূত হল হেফাজতে ইসলাম। ১৩ দফা আর লং মার্চ, মতিঝিলে হাজারো ইসলাম পছন্দ লোকের সমাবেশ। আওয়ামী সরকারের নতি স্বীকার অথবা রাজনৈতিক ব্যবহার।

এই ধারাবাহিকতায় আমরা আর প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আস্থা রাখতে পারছি না এবং আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের দল মনে করে তাদের সব ভুল অথবা রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলকে মেনে নিতে হবে বারবার সেটা আর না, অনেক হয়েছে। একজন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন “বংগবন্ধুর সাদাকালো আওয়ামী লীগ ভালবাসি, হাসিনার রঙ্গীন আওয়ামী লীগকে নয়”।

তাই বলতেই হচ্ছে সময় হয়ছে ঘুরে দাড়াবার। নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবার। যে দল পরিচালিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ভোটের জন্য নয় অথবা কারও পকেট ভরবার জন্য নয়। সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য বিকল্প জরুরী হয়ে পরেছে।নতুন দল হতে পারে গণজাগরণ মঞ্চ-প্রজন্ম চত্বর থেকে অথবা অন্য কেউ যারা দেশকে ভালবাসেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন তারাও সংগঠিত করতে পারেন। দল গঠন করবার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে বলে আমরা মনে করি তা হলঃ

১। বাংলাদেশের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এদেশের জনগন।

২। ১১,০০০ (এগারো হাজার) ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। এবং যুদ্ধাপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠন/দল সমূহ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা।

৩। বংগবন্ধু কোন দলের নয় তিনি জাতির পিতা হিসেবেই থাকবেন এবং কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন বংবন্ধুকে তাদের রাজনৈতিক শ্লোগান বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ কোন ধর্মকে আঘাত করতে পারবে না।

৪। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সব ধর্মের লোকেদের জন্য সমান অধিকার। ধর্মের বিকৃত ব্যবহার ও ধর্মকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করা।

৫। বাংলাদেশকে একটি সামাজিক কল্যানমূখী (Social Welfare State) রাষ্ট্রে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

৬। রাজনীতিকে পারিবারিক প্রভাবের আওয়তার বাইরে রাখতে হবে। দলে সুষ্ঠ গণতন্ত্র চর্চা থাকতে হবে। একজন সাধারন কর্মী যেন বিশ্বাস করে এবং জানবে সেও এই দলের প্রধান হতে পারবে একদিন এবং অবশ্যই তা দলীয় গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

উপরোক্ত বিষয় গুলো শুধু মাত্র আলোচনা শুরু করার জন্য অবতারনা করা হল। এ গুলো যে মানতেই হবে তা কিন্তু নয়। আমাদের পরিবর্তনের প্রয়োজনে ঘরে বসে থাকার আর কোন সু্যোগ নাই। আসুন আলোচনা শুরু করি। আলোচনা থেকেই একটি সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

Change the future of Bangladesh

April 9, 20130 commentsRead More
প্রবাসী বাংলাদেশের কুড়ি তেরো’র ইশতেহার

প্রবাসী বাংলাদেশের কুড়ি তেরো’র ইশতেহার

গত ৫ই ফেব্রুয়ারী শাহবাগের মোড়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে সেটাকে যৌক্তিক পরিনতির দিকে এগিয়ে নিতে দরকার সর্বপ্রকার ও সর্বমাত্রিক সহযোগিতা। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্তির পথে নিয়ে যেতে এবং স্বপনের বাংলাদেশ গড়তে এই বিপ্লবকে নিয়ে যেতে হবে পূর্ণাংগতার দিকে। তরুন প্রজন্ম ৪২ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করার যে প্রত্যয় দেশের মানুষকে দেখিয়েছে তা বাচিয়ে রাখা এবং সাংগঠনিক পূর্নতা দেবার রয়েছে ব্যপক প্রয়োজনিয়তা। এই বিপ্লবের অনেকগুলো শাখা প্রশাখা এবং ইশতেহার তৈরি হতে পারে। প্রতিটি ইশতেহার এবং প্রতিটি সাংগঠনিক প্রচেষ্টা এই গণজাগরণ মঞ্চ বা প্রজন্মের আন্দোলনকে পূর্ণতার দিকে ধাবিত করবে।

এখন সময় পরিবর্তনের-সময় দলীয় দালালি থেকে বেরিয়ে এসে শুধুমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার। প্রবাসে বসেও বাংলাদেশীরা দেশের যে কোন প্রয়োজনে নিজেদের সাধ্যমত করার চেষ্টা করে গেছেন সবসময়ই। তাদের চেষ্টা এবং সহযোগিতায় বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভূমিকা উজ্জ্বল হয়েছে, দাবী বাস্তবায়িত হয়েছে এর নজির অনেক। দুঃখের সাথে বলতে হয় এই আমরাই বাংলাদেশের নোংরা দলা-দলী আমদানি করেছি বিদেশেও। এগুলো নিয়ে কথা বলার আড্ডা’র টেবিলে ঝড় তোলার সময় শেষ। এখন সময় কিছু করার। এখন নতুন প্রজন্মের গণজাগরণের ছোয়ায় সময় হয়েছে আমাদের জেগে ওঠার। নতুন ভাবে চিন্তা করার এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার।

প্রজন্ম চত্বরের জ্বালিয়ে দেয়া আগুন ছড়াতে শুরু করেছে। এই শাহবাগের থেকে ছড়িয়ে যাওয়া স্ফুলিংগ গুলোই এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন বাংলাদেশের দিকে। রাজাকার মুক্ত, জামাত-শিবির বিহীন স্বাধীন বাংলাদেশের পথে। যে বাংলাদেশে হত্যা-লুন্ঠন-দূর্নীতি-সন্ত্রাস-অর্থের জন্য রাজনীতি (খারাপ লোকের রাজনীতি) থাকবে না। মানুষ তার নিজের অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। প্রজন্ম চত্বর একটি ডাক নতুন বাংলাদেশ গড়বার ডাক।

এই ডাকে সাড়া দিয়ে একটি সত্যিকারের পরিবর্তনের আশায়, প্রবাসী বাঙ্গালীদের এই বিপ্লবের অংশ হয়ে ওঠার তাগিদ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জাগরণের লক্ষ্যে একটি খসড়া ইশতেহার তৈরি করা হল। এই খসড়া ইশতেহার কে পূর্ণাংগ ইশতেহারে রুপান্তর করা হবে ধাপে ধাপে।

১। এই মুহুর্তের দাবী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যৌক্তিকতা এবং জামাত-শিবির নিষিদ্ধের প্রয়োজনিয়তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং সাধ্যমত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

  • বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধাপরাধ এবং এর বিচারের যৌক্তিকতা এবং মানুষের ইচ্ছা তুলে ধরতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক সংগঠন সমুহ, যেমন- জাতিসংঘ, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ সংস্থাস্মুহ ইত্যাদির কাছে এই যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবী তুলে ধরা।
  • প্রতিটি দেশের সংবাদ মাধ্যম, যেমন- পত্রিকা, রেডিও, টিভি তে নিয়মিত যুদ্ধাপরাধ বিচারের যোক্তিকতা তুলে ধরা এবং সাধরন মানুষকে সচেতন করে তোলা।

২। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে নিজেদের সাধ্যমত অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।

৩। প্রবাসে (দেশীয়) রাজনীতি বা দল সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখা।

৪। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশীরা বাংলাদেশী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে। প্রবাসে কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না।

৫। বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং এর জন্য সভা, সেমিনার, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ডকুমেন্টারি/বিজ্ঞাপন প্রচার।

৬। প্রবাসী স্কলার বাংলাদেশীদের নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শক কমিটি গঠন (যেখানে বিদেশী বন্ধু থাকতে পারে) এবং পরামর্শ গুলো জার্নাল আকারে প্রকাশ এবং বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

৭। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ২য়/৩য় প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস-কৃষ্টি তুলে ধরা।

উল্লখিত সাত দফা নিয়ে কাজ শুরু করবার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তমনা-দল মুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আলচনা এবং সংলাপ শুরু করতে হবে সে সাথে একটি কার্যকরী কর্মসুচী হাতে নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দরজায় পৌঁছাতে হবে।

April 1, 20130 commentsRead More
কবে বিশ্বজিৎ দাস এর খুনিদের রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করবেন?

কবে বিশ্বজিৎ দাস এর খুনিদের রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করবেন?

justice-670x250বলার অপেক্ষা রাখে না বিশ্বজিৎ দাস এর খুনিদের রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেবেন। আওয়ামী সরকারের আদরের সন্তানরা বিশ্বজিৎ দাস এর হত্যকারী হিসেবে চিহ্নিত। আদরের সন্তানরা যে আওয়ামী রাষ্ট্রপতি’র কাছ থেকেই ক্ষমা পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ পরিসঙ্খ্যান বলে এই আওয়ামী সরকারের আমলেই ২১ খুনি রাষ্ট্রপতি’র ক্ষমা পেয়েছেন। নেপথ্যে তারা সবাই আওয়ামী সন্তান।

বিশ্বজিৎ দাস কে? তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সে আওয়ামী সন্তান নয়। তার বিচার পাওয়ার অধিকার নেই। শুধু বিচার পাবে কন্যা এবং বিবি। বিচারের নামে প্রহসন চলবে খুনিরা রাজার হালে থাকবে এবং রাষ্ট্রপতি’ত আছেনই।

তাই এখন আমাদের অপেক্ষা কবে বিশ্বজিৎ দাস এর খুনিদের রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করবেন?

March 19, 20130 commentsRead More