View Sidebar

স্বাগতম!

এসএসসি পাশ করবার পর থেকেই কম্পিউটার ভুত মাথায় চাপে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি তথ্য প্রযুক্তির সাথে থাকতে। চেষ্টা করেছি অনেক কিছুই করতে। কিন্তু সফলতা এখনো পাইনি। তবে লেগে আছি সফলতা হয়ত একসময় আসবে। ব্যার্থতা আর ভুল আছে প্রচুর। তারপরেও হাল ছেড়ে দেইনি। সব ভুল আর ব্যার্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে চাই। তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি আগ্রহ আছে রাজনীতিতেও।
উদ্ভট উটেদের বিচরণে আমাদের যন্ত্রণা

উদ্ভট উটেদের বিচরণে আমাদের যন্ত্রণা

একটা অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, অক্ষমতার যন্ত্রণা। ধরে নিচ্ছি এই যন্ত্রণাটা আরো অনেকেরেই হচ্ছে। এই অক্ষমতা কি নিয়ে? অক্ষমতা হল কিছু না করতে পারা নিয়ে। কিসের কিছু না করতে পারা? কত কিছুই তো আমরা করতে পারি না। কত কিছুই নিয়েই তো আমাদের অক্ষমতার যন্ত্রণা আছে। তবে সময়ের সাথে সাথে এই না করতে পারার বিষয়গুলোর পরিবর্তন ঘটে। আবার সময়ে সময়ে কিছু কিছু না করতে পারা অসহ্য রকমের হয়ে দাঁড়ায়। কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে থাকে। দম বন্ধ করা কষ্ট হয়।

এই মুহুর্তে আমার যন্ত্রণাটা হল রাজনৈতিক। অনেকেই বলবেন এ আর নতুন কি? আমরাও আছি এই যন্ত্রণা নিয়ে। হ্যা, আমি মেনে নিচ্ছি দেশের সমস্ত মানুষ আছেন এই যন্ত্রণা নিয়ে। অনেকে এই যন্ত্রণা বুকে ধারন করে আগুনে ঝলসে গেছেন, চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সামনের কিছুদিন অথবা আরো অনেকদিন আরো অনেকেই চলে যাবেন। আর কেউ কেউ অগ্রিম বিবৃতি দেবেন এই আগুনে ঝলসে যাবার বা ঝলসে দেয়ার দায় নিয়ে। আর কখনই যারা ঝলসে দেন তারা আইনের আওতায় আসবেন না। ঝলসে যাওয়া পরিবারগুলো বিচার পাবে না। তাদের চোখের পানি শুকিয়ে যাবে, আশায় আশায় বুক বাধবেন-সত্যি বলতে কখনই হয়ত আশা করেন না যে, তারা বিচার পাবেন। তাই বুকে আশাও থাকে না। “উদ্ভট উটের পিঠে স্বদেশ” নাকি “স্বদেশের বুকে উদ্ভট উটেদের বেহায়া বিচরন”?

এই ঝলসে যাওয়ার দলে আজ রাতেই আরো দু’জন নাম লেখালেন। নির্বাচনি তফসিল ঘোষনা কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তান্ডবে মৃতের মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের সঙ্খ্যা বেড়ে চলল। একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে……যারা আগুনে ঝলসে দেয় তারা কি সাহস রাখে জয়-তারেক-ফখরুল-আশরাফ দের ঝলসে দেবার? তা কিভাবে হয়? আসলে তারা তো ঝলসান তাদের- যারা ছাপোষা জীবণ নিয়ে এই দেশে কীট-পতঙ্গের মত বেঁচে থাকে। ঝলসে দেবার সরঞ্জাম-টাকা-পয়সা আসে জয়-তারেক-ফখরুল-আশরাফ দের পকেট থেকে। এখানেও প্রশ্ন…… এই টাকা পয়সা কি তারা পকেট থেকে দেন? নাকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেন, অথবা যাদের ঝলসে দেয়া হয় তাদেরই কারো কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে কেড়েঁ নেয়া। এ এক অদ্ভুত নষ্ট পথের বিভিন্ন কানা গলি। উত্তর মেলা ভার। উত্তর মেলাতেও চাইনা। চাই এই নষ্ট পথটি যেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়।

যন্ত্রণা কথা বলছিলাম। যন্ত্রণাটা হল স্বাধীন দেশে পরাধীন কীট হিসেবে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা। ৪২ বছর ধরে এই যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি আমরা। নষ্ট পথ রচনার শুরুটা হয়ে গেল স্বাধীনিতা প্রাপ্তির পর থেকেই। ৯ মাস যুদ্ধ না হয়ে ৯ বছর যুদ্ধ হলে হয়ত আজ আমাদের যন্ত্রণা পেতে হত না। অথবা যুদ্ধের পরপর যদি একটি সর্বাত্মক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকে পাকাপোক্ত করা যেত। তাহলেও হয়ত যন্ত্রণা পোহাতে হতনা। কিন্তু সেটা নিয়েও কথা বলে লাভ নেই। এভাবে ভদ্র ভাষা ব্যবহার না করে খিস্তি করতে ইচ্ছে করছে। বুনো শুয়রদের কামড়া কামড়িতে মানুষের জীবন অতিষ্ট।

তথাকথিত নেতারা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-ইউ’কে ডেকে আনছে দেশের সমস্যা সমাধানে। সেলুকাস!! যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী শক্তিকে সমর্থন যোগাচ্ছে, অর্থ-অস্ত্র দিচ্ছে। আর এই আসাদ বিরোধীদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ্য হচ্ছে জিহাদী-আল কায়েদা। আসাদের অপসারনের পর যুক্তরাষ্ট্র কি করবে সিরিয়ায়? এরপর জিহাদী খেদাও। মাঝখান থেকে সিরিয়ার মানুষের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেবার উপায় থাকবে না। এই নব্য উপনিবেশবাদী যুক্তরাষ্ট্র’র বাংলাদেশে তাদের পছন্দের ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী। বাহ হিসাবটা খুব সোজা।

আমরা সবাই নপুংষক হয়ে গেছি। সবাই আশা করছি একজন নেতা বেরিয়ে আসবেন আমাদের রক্ষা করতে। কিন্তু কেউ নেতা হতে চাই না। অথবা বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধঁবার দায়িত্ব নিতে চাই না। বড্ড প্রয়োজন ছিল একজন মাওলানা ভাসানীর- একজন নেতার। দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক দল আছে। কয়েকলাখ নেতা আছে। কিন্তু আমাদের জন্য সত্যিকারের কোন দলও নেই নেতাও নেই। রাজাকার-স্বৈরাচার-পরিবারের বাইরে যে বামদলগুলো আছে তারা আবার তত্ত কপচাতে কপচাতে খন্ডিত হতে হতে নিঃশেষিত।

মিসরে মুরসির নব্যস্বৈরাচারী মনোভাবের কারনে দু’বছর পর আবারো সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সমর্থন যোগায় সেনা হস্তক্ষেপের। আমাদের দেশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? কাকে সমর্থন যোগাবে? মানুষ কি রাস্তায় নেমে আসবে? অনেক প্রশ্ন আর দোদুল্যতা।

যে যাই বলুক মুক্তির পথ হল- হাসিনা-খালেদা এবং তাদের পরিবার ও চ্যালা চামুন্ডা, স্বৈরাচার-রাজাকার মুক্ত দেশ। আর এই পথে নেতৃত্ব দিতে যে বা যারা এগিয়ে আসবে তার পিছনেই নপুংষক হয়ে যাওয়া মানুষগুলো মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে।

November 26, 20130 commentsRead More
খোলা চিঠি

খোলা চিঠি

আল্লামা শফি এবং বাবুনগরী সাহাব,

আমার সালাম গ্রহণ করিবেন। আশা করি খোদাতায়ালার অশেষ রহমতে ভাল আছেন। আপনাদের মেহেরবানী যে, আপনারা ইসলাম রক্ষার জন্য “হেফাজতে ইসলাম” নিয়ে মাঠে নেমেছেন আজ ৮/৯ মাস। আশা করি এই মাসগুলোতে আপনাদের সফলতা অনেক। আপনাদের হাতে যে পরিমান সুযোগ আছে তৃনমূলে মানুষকে

ইসলামী আন্দোলনে টেনে আনবার তা অন্য কারো নেই। আপনাদের হাতে আছে মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকাহ। যেখানে মানুষকে টেনে নিয়ে যেতে হয় না। মানুষ স্ব-ইচ্ছায় সেখানে যায়। দেশের ৭০/৮০ ভাগ মানুষই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে কোন না কোন মসজিদে যায়। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞান এবং ইসলাম বিরধীদের পরিচয় তুলে ধরতে আপনাদের খুব বেশী কষ্ট করতে হয় না, খরচ করতে হয় না টাকা পয়সা। বরং মানুষ আপনাদের কথা শুনে আল্লাহর রাস্তায় টাকা পয়সা দান করে আসে। এই যে বিরাট একটা জনমত গঠনের সুযোগ আপনাদের হাতে রয়েছে তা আর সবারই হিংসার কারণ।

আপনারা শাহাবাগী এবং ব্লগারদের ঢালাওভাবে নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী বলে দাবী করে আসছেন। নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তি দাবী করছেন। বেশ ভাল একটি উদ্যোগ। আপনারা ইসলাম হেফাজত না করলে ইসলাম বিপন্ন হয়ে যাবে। এ দেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯৯.৯৫ জন লোকই ধর্মভীরু বা খোদাভীরু। তারা কখনই ইসলামকে অবমাননা করে কিছু বলেন না অথবা কখনও আলোচনাও করেন না। হয়ত তারা গাফেল, ঠিকমত নামাজ-রোযা করেন না কিন্তু ধর্মবিরোধীতা কখনই করেননা। এরকম একটি ধর্মভীরু দেশে ইসলাম রক্ষায় হেফাজতে ইসলাম একটু বেশীই চোখে লাগে। আপনাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে কোন বিভ্রান্তি আমার নেই তবে আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে হয়ত আপনাদের সমর্থন করার সুযোগ আমার অনেক বেড়ে যেত। আশা করি উত্তরগুলো দিয়ে আমাকে আপনাদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত থেকে আমাকে মুক্ত করবেন।

১। শাহাবাগী এবং ব্লগারদের আপনারা নাস্তিক বলছেন এবং শাস্তি দাবী করছেন। শাবাগীরা কি ইসলামের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন সংগঠিত করেছে? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সংগঠিত হয়েছে?

২। আপনারা বলেছেন ব্লগাররা নাস্তিক। আচ্ছা আপনারা কার কার অথবা কোন কোন ব্লগ নিয়মিত ফলো করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন?

৩। আমাদের দেশে ব্লগিং শুরু হয়েছে ৭/৮ বছর আগে। আপনারা কি তখন থেকে ব্লগ ফলো করতেন? এই ৭/৮ বছরে কেন একবারেও আপনারা বললেননা যে ব্লগাররা ইসলাম বিরোধী লেখা লিখছে?

৪।  জাহানারা ইমামে জীবনের শেষ সময়ে এসে নাস্তিক উপাধী পেয়েছিলেন। কারণ সে সময়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছিলেন। এর আগে কেন তাকে নাস্তিক বলা হল না ঠিক সে সময়ে কেন? প্রতিবারেই জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন সংগঠিত হলেই আপনারা মাঠে নেমে আসেন নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। আপনারা কি বলবেন যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইবার সাথে নাস্তিকতার সম্পর্ক কোথায়?

৫। আমরা যখন উত্তরাতে আন্দোলন সংগঠিত করছিলাম (একদম প্রথম দিকে) একজন হুজুর আসলেন তিনি সাথে করে বোরখা পরিহিত তার তিন কন্যাকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি এসে আমাদের বললেন এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে হবেই। আরো বললেন মওদূদী গোমরাহী, হাক্কানী আলেম ওলামারা দেওবন্দ থেকে তৎকালীন সময়ে মওদূদী’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন এবং তার ফাঁসি দাবী করেছিলেন। এই মওদূদী প্রতিষ্ঠিত দল জন্ম লগ্ন থেকেই ফেৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে এসেছে। জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদী বাতিলের খাতায়। আপনারাও তো ঐ সিলসিলার লোক তাহলে আপনারা কেন তাদের (জামায়াত) পক্ষাবলম্বন করছেন?

৬। ইসলামী আন্দোলন একটি অনেক মর্যাদাপূর্ন আন্দোলন। এই আন্দোলনে সাড়া দিয়ে আপনাদের মাদ্রাসার শিশু-কিশোর ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছে। জনাব বাবুনগরী আপনার ছেলেকে কেন নিয়ে এলেননা? আপনার ছেলের পড়াশোনার জন্য সে আসেনি বা আপনি আনেননি। কিন্তু কথা হচ্ছে যে শিশু-কিশোররা আপনাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে তাদেরও তো পড়াশোনা আছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সবাইকে আপনার সমান চোখে দেখবার কথা আপনি সেটা দেখছেন কি?

৭। একজন মুমিন কখনই সূদ স্পর্শ করেন না এবং কোন দূর্নীতিগ্রস্ত লোকের সংস্পর্শে যান না। আমার এক দাদা ছিলেন লোকে তাকে পীর বলত। কিন্তু তিনি কখনো প্রচিলিত পীরদের মত পীরালী করেননি। তিনি তার মতই থাকতেন। কোন মুরীদও বানাননি। আমার এই দাদা সারা জীবন নিজের হাতে রান্না করে খেয়েছেন। কারো বাড়ীতে দাওয়াতে যেতেন না গেলেও খেতেন না। তিনি তারা সারা জীবন হাতে গোনা কয়েকজন লোকের বাসায় খেয়েছেন। যেখানে নিশ্চিত হয়েছেন উপার্জন হালাল। আমার প্রশ্ন হল আপনারাকি এভাবে নিশ্চিত হয়ে দান এবং দাওয়াত গ্রহন করেন?

৮। মসজিদে প্রথম সারিতে যে লোকগুলো দাঁড়ায় তাদের অধিকাংশই হারাম (ঘুষ) আয়ের লোক। এদেরেই দানে মসজিদগুলো চলে, বিল্ডিং হয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন হয়। আসলে দানের বিরাট অংশ আসে এই হারাম থেকে। আপনারা কি কখনো এই হারামের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন?

৯। যে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে সে না জেনেই বলে। এটা আমরা হর হামেশা শুনে আসছি। আপনারা কি জানানোর ব্যবস্থা করছেন? ফাঁসী দিয়ে কি এটা বন্ধ করা যাবে তাতে কি আপনাদের দায়িত্বে ফাঁকি দেয়া নয়? আপনারা কি আপনাদের জীবনে’র মাধ্যমে ইসলামের মাহাত্য এর সৌন্দর্য্য তুলে ধরেছেন? আপনারা এই মুহুর্তে ইসলামে হেফাজতকারী। আপনারা নবীজী, খলিফা উমর এর উধাহরন দেন। আপনারা কি সেই উধাহরন হতে পেরেছেন?

১০। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ সর্বোত্তম জিহাদ। আপনারা এই জিহাদে কি সফল? এই নফস থেকে হেফাজতের জন্য তো কোন আন্দোলন করেন না। ইসলাম শিক্ষা দিয়ে যে কোন প্রকার টাকা-পয়সা (হাদিয়া) নেয়া হারাম। আপনারা কি একাজ বন্ধ রেখেছেন?

হুজুর আপনাদের কাছে করার মত আরো অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে। কিন্তু এই ছোট্ট জায়গায় সব প্রশ্ন করে বিরক্ত উদ্রেক করতে চাচ্ছি না। সাধারনভাবেই এই কয়েকটা প্রশ্নই আমাকে আপনাদের সমর্থন দেয়া থেকে বিরত রেখেছে। আমি মনে করছি এই আন্দোলন (হেফাজতে ইসলাম) প্রকৃত ভাবে ইসলাম রক্ষা নয় বরং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। ইসলামের নাম দিয়ে ফেৎনা-ফাসাদ বাড়ানো হচ্ছে, যা আবুল-আলা-মওদুদী’র হাতে শুরু। আজ আপনারা সেই মওদূদীবাদের ষড়যন্ত্রের গুঁটি তে পরিনত হয়েছেন। আপনাদের মাথায় কাঠাল রখে ভেঙ্গে খেয়ে উঠে যাবে জামায়াত। আপনারা কিচ্ছু করতে পারবেন না। তবে দেশের সাধারন মানুষ এ ব্যপারে বেশ সজাগ। তারা এখন বোঝে সবকিছুর পিছনেই টাকা-ক্ষমতা আর যুদ্ধাপরাধীদের আড়ালে নেবার নীল নকশা। আল্লাহর দোহাই এই ফেৎনা ফেসাদ আর বাড়াবেন না। আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দান করুক। আমিন।

 

ইতি,

এক নালায়েক

সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

আশা-শঙ্কা-নিরাশা এই নিয়ে চলছে নির্বাচন কেন্দ্রীক বাংলাদেশের রাজনীতি। দেশের জ্ঞানীগুণী-দেশ সচেতন ব্যক্তিরা অনেক ধরনের লেখা লিখছেন। নেতাদের নির্লজ্জ বিদেশী রাষ্ট্রে’র প্রতিনিধিদের কাছে ছুটো-ছুটি, অভ্যন্তরীন বিষয়ে মার্কিন-ভারত এর নাক গলানো, সহিংস হরতাল, ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা আকড়ে থাকার বাসনা, দুই-দলের বিপরীতে কার্যকর বিকল্প শক্তি’র আশা, সেনাবাহিনীর ক্যু করবার আশঙ্কা, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তলানীতে, বিএনপি নির্বাচনে জিতবে/অথবা আওয়ামী লীগের সাফল্যের কারনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে, জোট-জোটের ভাঙ্গন-নতুন জোট, নির্দলীয় না সর্বদলীয় সরকার –ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় নিয়ে পত্রিকার পাতা মতামত দিয়ে ভরে উঠছে। এর মাঝে আবার সচেতন পাঠক বিভিন্ন সংবাদ/মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য প্রদান করছেন। এই হল মোটামুটি বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের রাজনীতি কেন্দ্রিক আলোচনার বিষয়বস্তু।

এই বিষয়গুলো যে নতুন কোন বিষয় তা কিন্তু নয়। স্বৈরাচার হটিয়ে গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা শুরু হবার পর থেকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধান দল ও চ্যালা-চামুন্ডারা রাজনীতির মাঠ সবসময়ই গরম রেখেছে। পার্থক্য হল ২০/২২ বছর আগে ভোটার সঙ্খ্যা কম ছিল এখন ভোটার প্রায় ৭/৮ কোটি। নির্লজ্জ্য বিদেশ তোষণ আর দূর্নীতি’র পরিমান বেড়েছে জ্যমিতিক হারে। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রাজনীতি থেকে নীতি বাদ গেছে। কোন সৎ বা প্রকৃত শিক্ষিত নেতার সৃষ্টি হয়নি হয়েছে টেন্ডারবাজ দূর্নীতিবাজ নেতার সৃষ্টি। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম নব্বই’র দশকে তখন অভিভাবকরা রাজনীতি করতে নিষেধ করতেন, কারন রাজনীতি করে খারাপ লোকেরা। আর আজ অভিভাবকরা  এই অবস্থায় সন্তানদেরকে কি বলবেন? হয়ত খারাপ লোক কথাটার সাথে আরো কিছু বিশেষণ যোগ করবেন গুন্ডা-বদমাশ-চোর-ডাকাত-ধর্ষক-প্রতারক-খুনি।

দেশেকে সর্বনাশের চরম সীমায় পৌঁছে দেবার জন্য একদল জোট বেধেছে স্বৈরাচারের সাথে আরেক দল যুদ্ধাপরাধীদের সাথে। মাঝখান থেকে সাধারণ মানুষের দফারফা। এই সাধারন মানুষের একটা স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহন দেখা গিয়েছিল শাহবাগ চ্বত্তরের শুরুতে। এখন তারাও বিভ্রান্ত। যে গণজাগরন মঞ্চ যুধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করবার জন্য আন্দোলন করে আসছে সে ফেব্রুয়ারী থেকে এবং এখন চাচ্ছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক তাদের বিচারের রায় কার্যকর করবার জন্য। তারাও নিশ্চয়ই এখন অবাক হচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধি ঘুরে যাবার পর থেকে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে চুপ মেরে গেছে। জামায়াতের বিষয়ে কোন কথাই তারা এখন বলছেন না। এটা কিসের লক্ষন হতে পারে? যেখানে ১৮ দলীয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিবিরের প্রক্তন সভাপতি বর্তমানে জামায়াত নেতা ৫৫ হাজার বর্গমাইল জ্বালিয়ে দেবার হুমকি দিলেন সেখানেও আওয়ামী লীগ চুপ।

আজ প্রথম আলোতে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন “বাংলাদেশ কেন গ্রেট গেমের শিকার হবে” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন যেখানে তিনি বৃহৎ শক্তিগুলোর বাংলাদেশকে নিয়ে কামড়া-কামড়ি অথবা অতিরিক্ত মাথাব্যথার কারন কি হতে পারে সেটা বিশ্লেষন করবার চেষ্টা করেছেন। আমি আসলে এ কারনে তার লেখটার কথা বলেছি, তিনি সেখানে এক জায়গায় “বাংলা বসন্তের” কথা বলেছেন। এই বাংলা বসন্ত নিয়ে আমার যত আগ্রহ। (লেখাটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)

আরব বসন্তের অনুকরণে যদি বাংলা বসন্ত তৈরি করবার চেষ্টা থেকে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর তবে আমাদের জন্য খুব ভাল কিছু নয়। আমরা চাইনা সম্রাজ্যবাদীরা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ুক। যদিও এই সম্রাজ্যবাদীদের খুশি করবার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। টিকফা চুক্তি করে আওয়ামী লীগ চাচ্ছে ক্ষমতায় আসাটা নিশ্চিত করতে আর এই দেশ বিরোধী চুক্তি নিয়ে বিএনপি’রও মাথাব্যথা নেই কারণ তারাও চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে। আর এভাবেই দেশীয় নেতারা সম্রাজ্যবাদীদের আদর করে নিয়ে আসছেন বেহায়ার মতন। অবশ্য সারা বাংলারা মানুষ খুব ভাল ভাবেই জানে দুটি দল শুধু মাত্র ক্ষমতায় যাবার জন্য রাজনীতি করে। তারা কখনো দেশ বা জনগনের স্বার্থে রাজনীতি করে না। দূর্নীতি দমন কমিশন কে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হল। দেখুন এখানেও বিএনপি অথবা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন প্রতিবাদ নেই। হরতাল নেই, বিক্ষোভ নেই, মিছিল নেই। সব শিয়ালের এক রা, একই মুদ্রার দুপিঠ আওয়ামী লীগ আর বিএনপি।

বাংলার মানুষ কবে জাগবে? কবে ভাংবে ঘুম? আর কত শিশু-প্রাণ আগুনে ঝলসালে মানুষের হুঁশ হবে? আর কোথায় নামেলে মানুষ তার অধিকারের জন্য রাস্তায় বেরুবে?

সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

সমাধান ঐ যে বাংলা বসন্ত। সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। অবশ্য সাধারন মানুষ একবার রাস্তায় নেমে এসেছিল এই বছরের শুরুতে। কিন্তু তখন ছিল শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে, তবে এখন নেমে আসতে হবে দেশের স্বার্থে রাজনীতি ও দেশ কে পুনঃগঠনের জন্য। দুই পরবারকে চিরতরে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেবার জন্য। খুনি-গুন্ডা-বদমাশ-চোর-ডাকাত-ধর্ষক-প্রতারক-রাজাকার মুক্ত রাজনৈতিক দল ও দেশের জন্য। পরিবার কেন্দ্রিক বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল নয় গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জন্য। দেশকে সম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ানক হবার হাত থেকে বাচাবার জন্য। একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রের জন্য। নেমে আসতে হবে রাস্তায়, নেমে আসতে হবে নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য। বাংলার মানুষ জানে কিভাবে রাস্তায় নামতে হয়। আর অপেক্ষা নয় নামতে হবে এখনই।

November 24, 20130 commentsRead More
আগুন দিয়ে নেতা নেতৃদের ঝলসে দেই!

আগুন দিয়ে নেতা নেতৃদের ঝলসে দেই!

বাংলাদেশের নেতা নেতৃদের যে পরিমান রক্ত পিপাসা, তা এসময়ে কোন সভ্য দেশে কল্পণার অতীত। দোষারোপ আর দায় চাপানো খুব সহজ। বাংলাদেশের মানুষও এ দেখতে দেখতে অভস্ত্য হয়ে গেছে। এখন সবাই জানে যদি কোন দূর্ঘটণা ঘটে তাহলে এর পরেই কি বিবৃতি আসবে সব মুখস্ত। যেমন মির্জা ফখরুল বললেন হরতালে ঘটা সমস্ত পিশাচিও কর্মকান্ডের জন্য সরকার দায়ী। আবার সরকারের তরফ থেকে দায় চাপানো হচ্ছে বিরোধীদলের উপর।

এই হরতাল হরতাল খেলা আর সাধরন মানুষকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া নতুন কিছুই তো নয়। যে দলই হরতাল দিক তারা ঠিক আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর কাজটা বেশ সুন্দর ভাবে করে। আর আগুনে যারা পুড়ে মারা যায় তাদের পরিবারের কি হয়? এই সব হত্যাকান্ডের কি কোন বিচার হয়? আসলে হরতাল মানে কিছু মানুষকে পোড়াতেই হবে। আর প্রতিটি হরতালেই শিশুদের পুড়িয়ে মারার আনন্দ রাজনীতিবিদরা মিস করতে চাননা।

কোন কোন সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবিরা কলাম লেখেন। হা হুতাশ করেন। ফেসবুকে লোকজন ছিছি করে। তারপর আবার আমরা মেতে উঠি এই নেতা ভাল ঐ নেতা খারাপ ইত্যদি ইত্যাদি। মাহফুজ আনাম সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটা লেখা লিখে ফেলেছেন উধাহরণ দিয়েছেন ভারতের। এরকম আরো কত শত লেখা। কত শত মত। মুরাদ-মনির-সুমি’র কি এসে যায় এতে?

কেউ কেউ হয়ত চোখের পানি ফেলে বলছেন বা লিখছেন -“আমি যেন মুরাদ হয়ে গেছি-মনির এর মত চামড়া ঝলসে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করছি।” আসলেই কি সেসব কষ্ট অনুভব করা সম্ভব? দু ফোঁটা চোখের পানি ফেলে কি কর্তব্য সারা হয়ে গেল?

কোন নেতা নেতৃর সন্তানেরা কি ককটেল নামক বল নিয়ে খেলা করেন? কোন নেতার সন্তানকে কি গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে? হয়নি কোনদিন হবেও না।

আর কত মানুষ আগুনে ঝলসালে, মারা গেলে, হত্যা করে রাজনীতিবিদরা ক্ষ্যন্ত হবেন? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে কখনই হবে না। তাদের রক্ত লিপ্সা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। ক্ষমতার জন্য হরতাল দেবেনই আর আগুন দিয়ে মানুষ মারবেনই। আর আমরা কি করব? আমরা আঙ্গুল চুষব। কারণ বাঙ্গালী এখন নপুংশক-কাপুরুষ-লোভী-সুবিধাবাদী।

আর কত সহ্য করলে মানুষের সহ্য সীমা পার হবে? কবে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে রাজনীতিবিদেরও আগুনে ঝলসে দেবেন? এমন যদি হয় সত্যি সত্যি মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এল। রাজনীতিবিদদের ধরে এনে গন আদালতের সামনে দাড় করানো হল। গণ আদালতের রায়ে বলা হল- “হাসিনার সামনে হাসিনা পুত্রকে, খালেদার সামনে খালেদা পুত্রকে আগুনে ঝলসে দেয়া হোক। সবার শেষে সমস্ত রাজনীতিবিদদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হোক”। তাহলে কেমন হয়?

হ্যা শুয়রের খোয়াড় থেকে ধরে এনে জ্বালিয়ে দেয়া হোক সমস্ত শুয়রদের।

November 6, 20130 commentsRead More
যৌন জিহাদ বা বিবাহ জিহাদ – ধর্মের লেবাসে যৌনতা

যৌন জিহাদ বা বিবাহ জিহাদ – ধর্মের লেবাসে যৌনতা

হঠাৎ করেই একটা খবর দেখে আৎকে উঠলাম। ‘যৌন জিহাদ’ করছেন তিউনিসিয়ার নারীরা! সিরিয়ায় সরকার বিরোধী যোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করবার জন্য ‘জিহাদ-আল নিকাহ’ -নামক স্বল্প সময়ের জন্য বিয়ে করছেন তারা। এমন কি একজন নারী ৩০ জন থেকে ১০০ জনের সাথে সহবাসে লিপ্ত হচ্ছেন!! এই ধরনের গল্প আগে শুনেনি। এতো দেখি ধর্মের দোহাই দিয়ে যৌনতার এক চুড়ান্ত রূপ। এটা কি হাদিস-কোরানে আছে?

এই সিরিয়ান জিহাদীদের সাপোর্ট করছে কে? খোদ আমেরিকা। সবসময়ই জিহাদীদের সাপোর্ট- এ থাকে এই আমেরিকা। আবার এই জিহাদীরাই আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে। এখন প্রশ্ন হল জিহাদীদের চরিত্র কি? জিহাদীরা আসলে একটা রাজনৈতিক লক্ষ্যের যোদ্ধা। অথবা আরো সহজে বললে, জিহাদ একটি আন্তর্জাতিক করপোরেট ব্যবসা।

সিরিয়ায় মোল্লাদের মেয়ে মানুষের অভাব হওয়ায় তিউনিসিয়ার নারীদের আমদানী করছে জিহাদে অংশগ্রহন করার কথা বলে, তারপর ভোগ করছে অথবা বলা যায় গণধর্ষণ করছে ইসলামের নাম দিয়ে।

ফেসবুকে একটা পেজে এই খবর মিথ্যা বলে দাবী করা হয়েছে। এদের বক্তব্য যে স্ববিরোধী তা এটা পড়লেই বোঝা যায়। তারা দাবী করছে এটা যৌন জিহাদ নয় বিবাহ জিহাদ।

bogol

বিবাহ জিহাদ কি? “সুন্নি সালাফিপন্থী কিছু আলেমের মতে, যুদ্ধকালীন সাময়িক বিবাহ বা ‘জিহাদ আল নিকাহ’ বৈধ। এই ধরনের ‘জিহাদি বিবাহ’তে কোনো মুসলিম নারী কোনো মুজাহিদকে বিয়ে করে তাঁর যৌনসঙ্গী হতে পারেন। আবার দ্রুতই তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। এই ধরনের সাময়িক বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী এক দিনে একাধিক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হতে পারেন। (প্রথম আলো)”।

তাই এখন আমার প্রশ্ন হল…কেউ ইচ্ছা করলেই কি স্বল্প সময়ের জন্য বিবাহ (অবশ্যই যৌনতার জন্য) করতে পারবেন?

September 22, 20130 commentsRead More