View Sidebar
NIHRD এবং আমার কৃতজ্ঞতা!

NIHRD এবং আমার কৃতজ্ঞতা!

September 22, 2013 9:41 pm0 comments

NIHRD বা National Institute of Human Resource Development এর যাত্রা শুরু ২০০৯ সালে Albatross Technologies Limited এর অফিস থেকে। এর শুরুর পিছনে যে ইচ্ছেটুকু কাজ করেছিল তা হল আইটি ইন্ডাস্ট্রি’র জন্য দক্ষ্য জনশক্তি গড়ে তোলা। ২০০৮ শুরুর দিকে Albatross এর জন্য আমরা Flash Game Developer খুচ্ছিলাম Netherlands এর ক্লায়েন্ট এর জন্য। কিন্তু একজন ফ্ল্যাশ ডিজাইনার ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই ডিজাইনার এবং PHP প্রোগ্রামারদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রথম Game আমরা ডেলিভারি করেছিলাম ৪ (চার) মাস পর। এই চার মাস শেখা এবং ডেভালপমেন্ট একসাথেই চলছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই NIHRD এর চিন্তা – ভাবনা শুরু।

২০০৯ সালে’র জুন মাসে ইফতেখার হোসাইন, খন্দকার আস-আদ মোস্তফা, রাসেল, নেয়ামত উল্লাহ এবং হাসিবুল হাসান খান কে নিয়ে NIHRD কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম আলো এবং পাঞ্জেরী শিক্ষা সংবাদে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। NIHRD এর প্রথম ছাত্র হাসিব বিন সিদ্দিক রিফাত। রিফাত পরবর্তীতে Albatross এ web designer হিসেবেও কাজ করে।

কম্পিউটার সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছাড়াও যেন শিক্ষিত তরুন প্রোগ্রামিং এ আসতে পারে সেটাই ছিল লক্ষ্য। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে ফ্রীল্যন্সার আজ কাজ করছে। সুযোগ রয়েছে আরো তরুনের ফ্রীল্যন্সার হিসেবে কাজ করবার। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও কারিগরী জ্ঞান সম্পন্ন জনশক্তির অভাব তো রয়েছেই। আমাদের ইচ্ছা ছিল এই ঘাটতি পূরন করায় কিছু কাজ করা। আরেকটা মূল ইচ্ছে ছিল উদ্যোক্তা তৈরি করা।  যেমন একজন ছাত্র আমাদের এখানে ট্রেনিং নেয়ার পর আমাদের সাথে কাজ করবে, পরবর্তীতে আমাদের সাথে সে একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আমাদের অংশীদার হবে (অর্থাৎ আমরা তাকে একটি সাইট করে দিব, সে মার্কেটিং করবে আমরা প্রফিট ভাগাভাগি করব), পরবর্তীতে সে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করবে। চারটি ধাপে সে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার সুযোগ পাবে।

শুরুটা আমাদের মোটামুটি ছিল মাঝে কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে বিভিন্ন ঝামেলা এবং মূল প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার কারনে। যাই হোক আবার NIHRD কে দ্বার করাবার চিন্তা ভাবনা করি এবং ২০১১ তে আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে আমার বন্ধু মাহাবুব হাসান (হিমু) সে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় নাজমুল হাসান নাহিদ, এ টি এম তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার সাথে। তাদের সাথে আমি আমার পরিকল্পনা শেয়ার করি। তারা এতে আগ্রহ দেখায়। কয়েকটা মিটিং এর পর আমরা একসাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর তাদের সাথে এসে যোগ দেয় মাহাদী হাসান, নিক্সন চৌধুরী এবং নুর এ আলাম শাহীন। আর প্রথম থেকেই ছিল আমার বাল্য বন্ধু নাজমুল আলম সুমন। ২য় বারের শুরুটা আমাদের অনেকটা ধুমকেতুর মত ছিল। খুব অল্প সময়ে আমরা ৩০০ জন ছাত্র পেয়ে যাই। স্বপ্ন দেখতে শুরু করি আরো বড় সফলতার। একটি ভাল মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে গড়ে তোলার। এর মাঝে আমাদের নিজেদের টীম স্পিরিট এমন দাড়ালো যা অসম্ভব রকমের সফল। এরকম একটা টীমের জন্য যে কেউ হিংসা করতে পারে।

কিন্তু সে সফলতা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। কারন আমাদের কিছু সিধান্তহীনতা এবং ভুল। যে গুলোর কারনে আমি আজ খুব অনুশোচনা করছি। কিন্তু শিক্ষা পেয়েছি। শিখেছি অনেক কিছু। হয়ত পরবর্তী সময়ে তা খুব কাজে লাগবে। আর যেহেতু আমিই ছিলাম নেতৃত্বে তাই সমস্ত দায় আমারই। তবে পেয়েছি অনেক কিছু, ভালোবাসা- সম্মিলিতভাবে সামনে এগুবার শক্তি। আমার ব্যার্থতাটা এটাই যে শেষ পর্যন্ত আমি তা ধরে রাখতে পারিনি। তবে বিশ্বাস করি এই হোঁচট খেয়ে পড়াটা আমার জন্য ভাল হয়েছে। নিজের দূর্বলতা গুলো সনাক্ত করা সহজ হয়েছে। আমি কিকি শিখেছি তা অন্য কোন একতা লেখায় আমি লিখব।

দুটো বছরে, আমি যাদের আমার সাথে পেয়েছি তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এর মাঝে অবশ্য আমি একজন শত্রু পেয়েছি যে ঘোষনা করছে আজীবণ সে আমার বিরোধিতা করবে। তাতে অবশ্য আমার লাভ হয়েছে সে প্রকৃত ভাবেই আমার উপকার করবে। কোন ভুল করতে গেলে তার কথা মনে হবে এবং আমি সাবধান হয়ে যাব। আমার বিন্দু মাত্র রাগ বা ক্ষোভ তার প্রতি নেই। আমি চাই সে করুক, কারন সমালোচনাই আমাকে সঠিক পথে এগুতে সাহায্য করবে।

আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ-  নাজমুল আলম সুমন, আসিফ আনোয়ার পথিক, আবুল কাশেম ভাই, নাজমুল হাসান নাহিদ, এ টি এম তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, মাহাদী হাসান, নুর এ আলাম শাহীন, নাহিদ হাসান সুজন, নিক্সন চৌধুরী, রাসেল, জুয়েল, সাইদুল ইসলাম, তুষার পাপ্পু, তৌহিদ রনি, বিথী, রিফাত বিন সিদ্দিকী, খান হেলালুজ্জামান অয়ন, নেজাউর রহমান খান সহ আরো অনেকে (যাদের নাম করতে পারছি না দুঃখিত)।

Leave a reply