View Sidebar
সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

November 24, 2013 11:00 pm0 comments

আশা-শঙ্কা-নিরাশা এই নিয়ে চলছে নির্বাচন কেন্দ্রীক বাংলাদেশের রাজনীতি। দেশের জ্ঞানীগুণী-দেশ সচেতন ব্যক্তিরা অনেক ধরনের লেখা লিখছেন। নেতাদের নির্লজ্জ বিদেশী রাষ্ট্রে’র প্রতিনিধিদের কাছে ছুটো-ছুটি, অভ্যন্তরীন বিষয়ে মার্কিন-ভারত এর নাক গলানো, সহিংস হরতাল, ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা আকড়ে থাকার বাসনা, দুই-দলের বিপরীতে কার্যকর বিকল্প শক্তি’র আশা, সেনাবাহিনীর ক্যু করবার আশঙ্কা, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তলানীতে, বিএনপি নির্বাচনে জিতবে/অথবা আওয়ামী লীগের সাফল্যের কারনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে, জোট-জোটের ভাঙ্গন-নতুন জোট, নির্দলীয় না সর্বদলীয় সরকার –ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় নিয়ে পত্রিকার পাতা মতামত দিয়ে ভরে উঠছে। এর মাঝে আবার সচেতন পাঠক বিভিন্ন সংবাদ/মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য প্রদান করছেন। এই হল মোটামুটি বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের রাজনীতি কেন্দ্রিক আলোচনার বিষয়বস্তু।

এই বিষয়গুলো যে নতুন কোন বিষয় তা কিন্তু নয়। স্বৈরাচার হটিয়ে গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা শুরু হবার পর থেকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধান দল ও চ্যালা-চামুন্ডারা রাজনীতির মাঠ সবসময়ই গরম রেখেছে। পার্থক্য হল ২০/২২ বছর আগে ভোটার সঙ্খ্যা কম ছিল এখন ভোটার প্রায় ৭/৮ কোটি। নির্লজ্জ্য বিদেশ তোষণ আর দূর্নীতি’র পরিমান বেড়েছে জ্যমিতিক হারে। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রাজনীতি থেকে নীতি বাদ গেছে। কোন সৎ বা প্রকৃত শিক্ষিত নেতার সৃষ্টি হয়নি হয়েছে টেন্ডারবাজ দূর্নীতিবাজ নেতার সৃষ্টি। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম নব্বই’র দশকে তখন অভিভাবকরা রাজনীতি করতে নিষেধ করতেন, কারন রাজনীতি করে খারাপ লোকেরা। আর আজ অভিভাবকরা  এই অবস্থায় সন্তানদেরকে কি বলবেন? হয়ত খারাপ লোক কথাটার সাথে আরো কিছু বিশেষণ যোগ করবেন গুন্ডা-বদমাশ-চোর-ডাকাত-ধর্ষক-প্রতারক-খুনি।

দেশেকে সর্বনাশের চরম সীমায় পৌঁছে দেবার জন্য একদল জোট বেধেছে স্বৈরাচারের সাথে আরেক দল যুদ্ধাপরাধীদের সাথে। মাঝখান থেকে সাধারণ মানুষের দফারফা। এই সাধারন মানুষের একটা স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহন দেখা গিয়েছিল শাহবাগ চ্বত্তরের শুরুতে। এখন তারাও বিভ্রান্ত। যে গণজাগরন মঞ্চ যুধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করবার জন্য আন্দোলন করে আসছে সে ফেব্রুয়ারী থেকে এবং এখন চাচ্ছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক তাদের বিচারের রায় কার্যকর করবার জন্য। তারাও নিশ্চয়ই এখন অবাক হচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধি ঘুরে যাবার পর থেকে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে চুপ মেরে গেছে। জামায়াতের বিষয়ে কোন কথাই তারা এখন বলছেন না। এটা কিসের লক্ষন হতে পারে? যেখানে ১৮ দলীয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিবিরের প্রক্তন সভাপতি বর্তমানে জামায়াত নেতা ৫৫ হাজার বর্গমাইল জ্বালিয়ে দেবার হুমকি দিলেন সেখানেও আওয়ামী লীগ চুপ।

আজ প্রথম আলোতে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন “বাংলাদেশ কেন গ্রেট গেমের শিকার হবে” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন যেখানে তিনি বৃহৎ শক্তিগুলোর বাংলাদেশকে নিয়ে কামড়া-কামড়ি অথবা অতিরিক্ত মাথাব্যথার কারন কি হতে পারে সেটা বিশ্লেষন করবার চেষ্টা করেছেন। আমি আসলে এ কারনে তার লেখটার কথা বলেছি, তিনি সেখানে এক জায়গায় “বাংলা বসন্তের” কথা বলেছেন। এই বাংলা বসন্ত নিয়ে আমার যত আগ্রহ। (লেখাটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)

আরব বসন্তের অনুকরণে যদি বাংলা বসন্ত তৈরি করবার চেষ্টা থেকে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর তবে আমাদের জন্য খুব ভাল কিছু নয়। আমরা চাইনা সম্রাজ্যবাদীরা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ুক। যদিও এই সম্রাজ্যবাদীদের খুশি করবার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। টিকফা চুক্তি করে আওয়ামী লীগ চাচ্ছে ক্ষমতায় আসাটা নিশ্চিত করতে আর এই দেশ বিরোধী চুক্তি নিয়ে বিএনপি’রও মাথাব্যথা নেই কারণ তারাও চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে। আর এভাবেই দেশীয় নেতারা সম্রাজ্যবাদীদের আদর করে নিয়ে আসছেন বেহায়ার মতন। অবশ্য সারা বাংলারা মানুষ খুব ভাল ভাবেই জানে দুটি দল শুধু মাত্র ক্ষমতায় যাবার জন্য রাজনীতি করে। তারা কখনো দেশ বা জনগনের স্বার্থে রাজনীতি করে না। দূর্নীতি দমন কমিশন কে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হল। দেখুন এখানেও বিএনপি অথবা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন প্রতিবাদ নেই। হরতাল নেই, বিক্ষোভ নেই, মিছিল নেই। সব শিয়ালের এক রা, একই মুদ্রার দুপিঠ আওয়ামী লীগ আর বিএনপি।

বাংলার মানুষ কবে জাগবে? কবে ভাংবে ঘুম? আর কত শিশু-প্রাণ আগুনে ঝলসালে মানুষের হুঁশ হবে? আর কোথায় নামেলে মানুষ তার অধিকারের জন্য রাস্তায় বেরুবে?

সবাই শুধু খালি সমালোচনা করে, সমাধান কি?

সমাধান ঐ যে বাংলা বসন্ত। সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। অবশ্য সাধারন মানুষ একবার রাস্তায় নেমে এসেছিল এই বছরের শুরুতে। কিন্তু তখন ছিল শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে, তবে এখন নেমে আসতে হবে দেশের স্বার্থে রাজনীতি ও দেশ কে পুনঃগঠনের জন্য। দুই পরবারকে চিরতরে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেবার জন্য। খুনি-গুন্ডা-বদমাশ-চোর-ডাকাত-ধর্ষক-প্রতারক-রাজাকার মুক্ত রাজনৈতিক দল ও দেশের জন্য। পরিবার কেন্দ্রিক বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল নয় গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জন্য। দেশকে সম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ানক হবার হাত থেকে বাচাবার জন্য। একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রের জন্য। নেমে আসতে হবে রাস্তায়, নেমে আসতে হবে নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য। বাংলার মানুষ জানে কিভাবে রাস্তায় নামতে হয়। আর অপেক্ষা নয় নামতে হবে এখনই।

Leave a reply