View Sidebar
বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই।

বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই।

December 2, 2013 10:50 am0 comments

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সবাই আশাহত এবং ব্যথিত। মনের ঝাল রাগ গালি ঝেরে অনেকেই কথা বলছেন। আমিও বলছি। কিন্তু তারপরেও হচ্ছে না। একটা ফাঁক রয়েই যাচ্ছে। অথবা একটা বিভক্তি রেখা। এই বিভক্তি সব কিছুতেই প্রকট হয়ে পড়েছে। সুশীল ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত লিখছেন। ব্যলান্স রক্ষা করে লেখা। কোথাও কোথাও লেখা হচ্ছে নেত্রীদের বিষেদ্গার মানেই জামায়াত কে রক্ষার পায়তারা। আরো স্পষ্ট করে বললে শেখ হাসিনা’র বিরোধীতা করা যাবে না। তার বিরোধিতা মানেই জামায়াত পক্ষ। আবার খালেদার বিরোধিতা করা যাবে না তাতে আওয়ামী পক্ষ। এখন সব কিছুই বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

কোথাও ধরি মাছ না ছুইঁ পানি আর কোথাও প্রকট পক্ষতা। একদিকে রাজনীতি অন্যদিকে যুধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত ইসলামী এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার। সাধারন মানুষ কি চায়? সাধারন মানুষ শান্তি চায়। একই সাথে সমস্ত অন্যায়ের বিচারও চায়। কিভাবে তা সম্ভব হবে? সাধারন মানুষের কাছে সে উত্তরও নেই। বুদ্ধিজীবি বা অন্যরা যে উত্তর দিবেন তাও মনের মত হবে না। কারন তাদেরও বুদ্ধির আড়ালে পক্ষতার যোগসুত্র থাকতে পারে। হুম সন্দেহ আর অবিশ্বাস একেবারেই ভিতরে প্রোথিত। উত্তরণের পথ কি? এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজে কি চাই সেটা আগে পরিস্কার করে নেয়াটা যুক্তিযুক্ত। আমি বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই। কিভাবে চাই?

১। পরিবার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল নয়।

২। দলের ভেতর সত্যিকার গনতন্ত্র চর্চাকারী গনতান্ত্রিক দল।

৩। রাজনৈতিক দলগুলোতে কোন রাজাকার এবং স্বৈরাচারের দোসর থাকতে পারবে না।

৪। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে।

৫। যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার আর সমস্ত রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচারের বিষয়ে ঐক্যমত থাকতে হবে।

৬। দুইবারের বেশী কেউ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে পারবেন না।

৭। কোন দলের বিদেশে শাখা থাকতে পারবেন না।

৮। শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, পেশাজীবিদের রাজনৈতিক দল ভিত্তিক কোন সংগঠন থাকতে পারবে না। যে কেউ সরাসরি রাজনীতি করতে পারবেন তবে পেশাজীবিদের মধ্যে দল ভিত্তিক সংগঠন থাকতে পারবে না।

৯। কোন দলের ছাত্র সংগঠন থাকতে পারবে না। ছাত্র সংসদ গুলো দলের প্রভাবের বাইরে রাখতে হবে।

১০। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে হবে সরাসরি ভোটে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী’র মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১১। রাজনৈতিক দলগুলো অহিংস আন্দোলনের পথ অনুসরণ করবে। ক্যডার পোষা বন্ধ করতে হবে।

১২। দূর্নীতিবাজ, গুন্ডা, বদমাশ, গডফাদার কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবে না।

১৩। পরমতসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে হবে।

১৪। ক্ষমতা ভিত্তিক নয়, দেশ পরিচালনা ও জনকল্যান মূলক রাজনীতি করতে হবে।

১৫। টাকার জন্য রাজনীতি নয়। “নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো” এই নীতিতে রাজনীতি করতে হবে।

১৬। যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তিনি সরাসরি কোন ব্যবসা পরিচালনায় থাকতে পারবেন না।

১৭। দেশের রাজনীতি বিষয়ে বিদেশীদের পিছনে দৌড়ানো বন্ধ করতে হবে। এবং বিদেশীদের নাক গলানোতে সম্মিলিতভাবে না বলতে হবে।

১৮। একই সাথে দলের প্রধান এবং সরকার প্রধান হতে পারবে না।

১৯। দূর্নীতি দমন কমিশন ও বিচারবিভাগ কে শতভাগ স্বাধিনতা দিতে হবে। (সরকার প্রধান থেকে শুরু করে যে কারো বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্তে সরকারের সিদ্ধান্তে নেয়া বাদ দিতে হবে)

২০। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি মনে করি এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে রাজনীতির সংস্কার সাধন করলেই দেশ অরাজকতা থেকে বাচঁবে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর ক্ষমতার জন্য হানাহানি আর মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারাও বন্ধ হবে। গান পাউডার আর পেট্রল বোমা মেরে মানুষ মারার প্রতিযোগিতাও বন্ধ হবে।

Leave a reply