View Sidebar
প্রবাসী বাংলাদেশের কুড়ি তেরো’র ইশতেহার

প্রবাসী বাংলাদেশের কুড়ি তেরো’র ইশতেহার

April 1, 2013 10:51 pm0 comments

গত ৫ই ফেব্রুয়ারী শাহবাগের মোড়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে সেটাকে যৌক্তিক পরিনতির দিকে এগিয়ে নিতে দরকার সর্বপ্রকার ও সর্বমাত্রিক সহযোগিতা। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্তির পথে নিয়ে যেতে এবং স্বপনের বাংলাদেশ গড়তে এই বিপ্লবকে নিয়ে যেতে হবে পূর্ণাংগতার দিকে। তরুন প্রজন্ম ৪২ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করার যে প্রত্যয় দেশের মানুষকে দেখিয়েছে তা বাচিয়ে রাখা এবং সাংগঠনিক পূর্নতা দেবার রয়েছে ব্যপক প্রয়োজনিয়তা। এই বিপ্লবের অনেকগুলো শাখা প্রশাখা এবং ইশতেহার তৈরি হতে পারে। প্রতিটি ইশতেহার এবং প্রতিটি সাংগঠনিক প্রচেষ্টা এই গণজাগরণ মঞ্চ বা প্রজন্মের আন্দোলনকে পূর্ণতার দিকে ধাবিত করবে।

এখন সময় পরিবর্তনের-সময় দলীয় দালালি থেকে বেরিয়ে এসে শুধুমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার। প্রবাসে বসেও বাংলাদেশীরা দেশের যে কোন প্রয়োজনে নিজেদের সাধ্যমত করার চেষ্টা করে গেছেন সবসময়ই। তাদের চেষ্টা এবং সহযোগিতায় বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভূমিকা উজ্জ্বল হয়েছে, দাবী বাস্তবায়িত হয়েছে এর নজির অনেক। দুঃখের সাথে বলতে হয় এই আমরাই বাংলাদেশের নোংরা দলা-দলী আমদানি করেছি বিদেশেও। এগুলো নিয়ে কথা বলার আড্ডা’র টেবিলে ঝড় তোলার সময় শেষ। এখন সময় কিছু করার। এখন নতুন প্রজন্মের গণজাগরণের ছোয়ায় সময় হয়েছে আমাদের জেগে ওঠার। নতুন ভাবে চিন্তা করার এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার।

প্রজন্ম চত্বরের জ্বালিয়ে দেয়া আগুন ছড়াতে শুরু করেছে। এই শাহবাগের থেকে ছড়িয়ে যাওয়া স্ফুলিংগ গুলোই এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন বাংলাদেশের দিকে। রাজাকার মুক্ত, জামাত-শিবির বিহীন স্বাধীন বাংলাদেশের পথে। যে বাংলাদেশে হত্যা-লুন্ঠন-দূর্নীতি-সন্ত্রাস-অর্থের জন্য রাজনীতি (খারাপ লোকের রাজনীতি) থাকবে না। মানুষ তার নিজের অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। প্রজন্ম চত্বর একটি ডাক নতুন বাংলাদেশ গড়বার ডাক।

এই ডাকে সাড়া দিয়ে একটি সত্যিকারের পরিবর্তনের আশায়, প্রবাসী বাঙ্গালীদের এই বিপ্লবের অংশ হয়ে ওঠার তাগিদ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জাগরণের লক্ষ্যে একটি খসড়া ইশতেহার তৈরি করা হল। এই খসড়া ইশতেহার কে পূর্ণাংগ ইশতেহারে রুপান্তর করা হবে ধাপে ধাপে।

১। এই মুহুর্তের দাবী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যৌক্তিকতা এবং জামাত-শিবির নিষিদ্ধের প্রয়োজনিয়তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং সাধ্যমত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

  • বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধাপরাধ এবং এর বিচারের যৌক্তিকতা এবং মানুষের ইচ্ছা তুলে ধরতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক সংগঠন সমুহ, যেমন- জাতিসংঘ, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ সংস্থাস্মুহ ইত্যাদির কাছে এই যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবী তুলে ধরা।
  • প্রতিটি দেশের সংবাদ মাধ্যম, যেমন- পত্রিকা, রেডিও, টিভি তে নিয়মিত যুদ্ধাপরাধ বিচারের যোক্তিকতা তুলে ধরা এবং সাধরন মানুষকে সচেতন করে তোলা।

২। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে নিজেদের সাধ্যমত অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।

৩। প্রবাসে (দেশীয়) রাজনীতি বা দল সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখা।

৪। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশীরা বাংলাদেশী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে। প্রবাসে কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না।

৫। বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং এর জন্য সভা, সেমিনার, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ডকুমেন্টারি/বিজ্ঞাপন প্রচার।

৬। প্রবাসী স্কলার বাংলাদেশীদের নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শক কমিটি গঠন (যেখানে বিদেশী বন্ধু থাকতে পারে) এবং পরামর্শ গুলো জার্নাল আকারে প্রকাশ এবং বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

৭। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ২য়/৩য় প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস-কৃষ্টি তুলে ধরা।

উল্লখিত সাত দফা নিয়ে কাজ শুরু করবার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তমনা-দল মুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আলচনা এবং সংলাপ শুরু করতে হবে সে সাথে একটি কার্যকরী কর্মসুচী হাতে নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দরজায় পৌঁছাতে হবে।

Leave a reply