View Sidebar
খোলা চিঠি

খোলা চিঠি

November 26, 2013 10:45 pm0 comments

আল্লামা শফি এবং বাবুনগরী সাহাব,

আমার সালাম গ্রহণ করিবেন। আশা করি খোদাতায়ালার অশেষ রহমতে ভাল আছেন। আপনাদের মেহেরবানী যে, আপনারা ইসলাম রক্ষার জন্য “হেফাজতে ইসলাম” নিয়ে মাঠে নেমেছেন আজ ৮/৯ মাস। আশা করি এই মাসগুলোতে আপনাদের সফলতা অনেক। আপনাদের হাতে যে পরিমান সুযোগ আছে তৃনমূলে মানুষকে

ইসলামী আন্দোলনে টেনে আনবার তা অন্য কারো নেই। আপনাদের হাতে আছে মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকাহ। যেখানে মানুষকে টেনে নিয়ে যেতে হয় না। মানুষ স্ব-ইচ্ছায় সেখানে যায়। দেশের ৭০/৮০ ভাগ মানুষই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে কোন না কোন মসজিদে যায়। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞান এবং ইসলাম বিরধীদের পরিচয় তুলে ধরতে আপনাদের খুব বেশী কষ্ট করতে হয় না, খরচ করতে হয় না টাকা পয়সা। বরং মানুষ আপনাদের কথা শুনে আল্লাহর রাস্তায় টাকা পয়সা দান করে আসে। এই যে বিরাট একটা জনমত গঠনের সুযোগ আপনাদের হাতে রয়েছে তা আর সবারই হিংসার কারণ।

আপনারা শাহাবাগী এবং ব্লগারদের ঢালাওভাবে নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী বলে দাবী করে আসছেন। নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তি দাবী করছেন। বেশ ভাল একটি উদ্যোগ। আপনারা ইসলাম হেফাজত না করলে ইসলাম বিপন্ন হয়ে যাবে। এ দেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯৯.৯৫ জন লোকই ধর্মভীরু বা খোদাভীরু। তারা কখনই ইসলামকে অবমাননা করে কিছু বলেন না অথবা কখনও আলোচনাও করেন না। হয়ত তারা গাফেল, ঠিকমত নামাজ-রোযা করেন না কিন্তু ধর্মবিরোধীতা কখনই করেননা। এরকম একটি ধর্মভীরু দেশে ইসলাম রক্ষায় হেফাজতে ইসলাম একটু বেশীই চোখে লাগে। আপনাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে কোন বিভ্রান্তি আমার নেই তবে আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে হয়ত আপনাদের সমর্থন করার সুযোগ আমার অনেক বেড়ে যেত। আশা করি উত্তরগুলো দিয়ে আমাকে আপনাদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত থেকে আমাকে মুক্ত করবেন।

১। শাহাবাগী এবং ব্লগারদের আপনারা নাস্তিক বলছেন এবং শাস্তি দাবী করছেন। শাবাগীরা কি ইসলামের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন সংগঠিত করেছে? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সংগঠিত হয়েছে?

২। আপনারা বলেছেন ব্লগাররা নাস্তিক। আচ্ছা আপনারা কার কার অথবা কোন কোন ব্লগ নিয়মিত ফলো করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন?

৩। আমাদের দেশে ব্লগিং শুরু হয়েছে ৭/৮ বছর আগে। আপনারা কি তখন থেকে ব্লগ ফলো করতেন? এই ৭/৮ বছরে কেন একবারেও আপনারা বললেননা যে ব্লগাররা ইসলাম বিরোধী লেখা লিখছে?

৪।  জাহানারা ইমামে জীবনের শেষ সময়ে এসে নাস্তিক উপাধী পেয়েছিলেন। কারণ সে সময়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছিলেন। এর আগে কেন তাকে নাস্তিক বলা হল না ঠিক সে সময়ে কেন? প্রতিবারেই জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন সংগঠিত হলেই আপনারা মাঠে নেমে আসেন নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। আপনারা কি বলবেন যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইবার সাথে নাস্তিকতার সম্পর্ক কোথায়?

৫। আমরা যখন উত্তরাতে আন্দোলন সংগঠিত করছিলাম (একদম প্রথম দিকে) একজন হুজুর আসলেন তিনি সাথে করে বোরখা পরিহিত তার তিন কন্যাকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি এসে আমাদের বললেন এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে হবেই। আরো বললেন মওদূদী গোমরাহী, হাক্কানী আলেম ওলামারা দেওবন্দ থেকে তৎকালীন সময়ে মওদূদী’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন এবং তার ফাঁসি দাবী করেছিলেন। এই মওদূদী প্রতিষ্ঠিত দল জন্ম লগ্ন থেকেই ফেৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে এসেছে। জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদী বাতিলের খাতায়। আপনারাও তো ঐ সিলসিলার লোক তাহলে আপনারা কেন তাদের (জামায়াত) পক্ষাবলম্বন করছেন?

৬। ইসলামী আন্দোলন একটি অনেক মর্যাদাপূর্ন আন্দোলন। এই আন্দোলনে সাড়া দিয়ে আপনাদের মাদ্রাসার শিশু-কিশোর ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছে। জনাব বাবুনগরী আপনার ছেলেকে কেন নিয়ে এলেননা? আপনার ছেলের পড়াশোনার জন্য সে আসেনি বা আপনি আনেননি। কিন্তু কথা হচ্ছে যে শিশু-কিশোররা আপনাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে তাদেরও তো পড়াশোনা আছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সবাইকে আপনার সমান চোখে দেখবার কথা আপনি সেটা দেখছেন কি?

৭। একজন মুমিন কখনই সূদ স্পর্শ করেন না এবং কোন দূর্নীতিগ্রস্ত লোকের সংস্পর্শে যান না। আমার এক দাদা ছিলেন লোকে তাকে পীর বলত। কিন্তু তিনি কখনো প্রচিলিত পীরদের মত পীরালী করেননি। তিনি তার মতই থাকতেন। কোন মুরীদও বানাননি। আমার এই দাদা সারা জীবন নিজের হাতে রান্না করে খেয়েছেন। কারো বাড়ীতে দাওয়াতে যেতেন না গেলেও খেতেন না। তিনি তারা সারা জীবন হাতে গোনা কয়েকজন লোকের বাসায় খেয়েছেন। যেখানে নিশ্চিত হয়েছেন উপার্জন হালাল। আমার প্রশ্ন হল আপনারাকি এভাবে নিশ্চিত হয়ে দান এবং দাওয়াত গ্রহন করেন?

৮। মসজিদে প্রথম সারিতে যে লোকগুলো দাঁড়ায় তাদের অধিকাংশই হারাম (ঘুষ) আয়ের লোক। এদেরেই দানে মসজিদগুলো চলে, বিল্ডিং হয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন হয়। আসলে দানের বিরাট অংশ আসে এই হারাম থেকে। আপনারা কি কখনো এই হারামের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন?

৯। যে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে সে না জেনেই বলে। এটা আমরা হর হামেশা শুনে আসছি। আপনারা কি জানানোর ব্যবস্থা করছেন? ফাঁসী দিয়ে কি এটা বন্ধ করা যাবে তাতে কি আপনাদের দায়িত্বে ফাঁকি দেয়া নয়? আপনারা কি আপনাদের জীবনে’র মাধ্যমে ইসলামের মাহাত্য এর সৌন্দর্য্য তুলে ধরেছেন? আপনারা এই মুহুর্তে ইসলামে হেফাজতকারী। আপনারা নবীজী, খলিফা উমর এর উধাহরন দেন। আপনারা কি সেই উধাহরন হতে পেরেছেন?

১০। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ সর্বোত্তম জিহাদ। আপনারা এই জিহাদে কি সফল? এই নফস থেকে হেফাজতের জন্য তো কোন আন্দোলন করেন না। ইসলাম শিক্ষা দিয়ে যে কোন প্রকার টাকা-পয়সা (হাদিয়া) নেয়া হারাম। আপনারা কি একাজ বন্ধ রেখেছেন?

হুজুর আপনাদের কাছে করার মত আরো অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে। কিন্তু এই ছোট্ট জায়গায় সব প্রশ্ন করে বিরক্ত উদ্রেক করতে চাচ্ছি না। সাধারনভাবেই এই কয়েকটা প্রশ্নই আমাকে আপনাদের সমর্থন দেয়া থেকে বিরত রেখেছে। আমি মনে করছি এই আন্দোলন (হেফাজতে ইসলাম) প্রকৃত ভাবে ইসলাম রক্ষা নয় বরং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। ইসলামের নাম দিয়ে ফেৎনা-ফাসাদ বাড়ানো হচ্ছে, যা আবুল-আলা-মওদুদী’র হাতে শুরু। আজ আপনারা সেই মওদূদীবাদের ষড়যন্ত্রের গুঁটি তে পরিনত হয়েছেন। আপনাদের মাথায় কাঠাল রখে ভেঙ্গে খেয়ে উঠে যাবে জামায়াত। আপনারা কিচ্ছু করতে পারবেন না। তবে দেশের সাধারন মানুষ এ ব্যপারে বেশ সজাগ। তারা এখন বোঝে সবকিছুর পিছনেই টাকা-ক্ষমতা আর যুদ্ধাপরাধীদের আড়ালে নেবার নীল নকশা। আল্লাহর দোহাই এই ফেৎনা ফেসাদ আর বাড়াবেন না। আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দান করুক। আমিন।

 

ইতি,

এক নালায়েক

Leave a reply