View Sidebar
ক্ষোভের বিষ!

ক্ষোভের বিষ!

July 16, 2013 8:27 am0 comments

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি প্রকাশণায় আছে “ক্ষোভ হচ্ছে এমন একটা বিষ যা সে নিজে পান করছে কিন্তু প্রত্যাশা করছে প্রতিপক্ষ মারা যাবে। রাগ প্রকাশ না করে পুষে রাখলেই তা ক্ষোভে পরিণত হয়। অর্থাৎ যে রাগ আমরা অন্যের ওপর প্রকাশ করতে পারি না কারণ তিনি আমার চেয়ে শক্তিমান তাই আমাদের মনে জমে থাকে ক্ষোভ হিসেবে। রাগ আমরা তার সাথেই দেখাই যে প্রতিপক্ষ হিসেবে দুর্বল। 

আমরা বাংলাদেশের জনগন এই ক্ষোভের বিষ পান করেছি এবং অকাতরে মারা যাচ্ছি। দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল এই ক্ষোভের বিষের মূল কারণ। প্রত্যেকটি মানুষ এই দুই দলের হাত থেকে মুক্তি চায়। দুটি দল – দুটি রাজ বংশ। একজন বাবা’র উত্তরাধিকার সূত্রে, আরেকজন স্বামী’র মৃত্যুতে দুটি রাজ-বংশ/রাজ-দলের রানী হয়ে বসেছে। দুই রাজ পরিবারের ক্ষমতার লোভ এবং হিংসার আগুনে বাংলাদেশের মানুষ পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে।

এমন কোন চায়ের দোকান নেই, এমন কোন আড্ডা নেই যেখানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয় না। একটা সময় মানুষ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে করতে নিজেদের মধ্যে মারামারি লাগিয়ে দিত। তাই পাড়ার পুরির দোকান, বা চা এর দোকানে লেখা থাকত “রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ”।

এখন এধরনের লেখা আর চোখে পড়ে না, কারণ মানুষ এখন দল নিয়ে আলাপ শুরু করলেও, শেষের দিকে এসে বলে আসলে এই দু’দলের  কোন দলকেই চাই না।। রাজনৈতিক আলাপ মানেই – এই দুই মহিলা বা এই দুই দলের হাত থেকে মুক্তি। দল এটা ভাল করেছে, ওটা খারাপ করেছে – এর থেকে এখন প্রাধান্য পায় ব্যক্তি কি করেছে। ফালু-আবুল-মুহিত-মির্জা-পিন্টু-শফিক এভাবেই নামগুলো ঘুরে ফিরে আসে। এবং মানুষ ঘৃনার সাথে নামগুলো উচ্চারন করে।

রাজদরবারের মন্ত্রী, এলাকা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সাস্ত্রীগণ সবাই রাজরানীদের গুনকীর্তনে ব্যতিব্যাস্ত। আসলে রাজরানীদের সুনজরে থাকা মানেই কাড়ি কাড়ি টাকা পয়সা বানাবার সু্যোগ। এই ইদুঁর দৌড়ে জীবন দিতেও এদের বাধে না। অথবা এরা বুঝেই না কোন সময় জীবনটা চলে গেল! এতে অবশ্য রানীদের মাথাব্যথা নেই – কত এরকম জীবণ যাবে, আবার নতুন কেউ আসবে জীবণ দিতে। তাদের কিছু এসে যায় না। তাদের ছেলে মেয়েরা নিরাপদেই থাকেন, কোন মায়ের বুক খালি হল -তাতে তাদের কি? তাদের বুক ত আর খালি হবার নয়। তোষামদী এমন চলে যে, রাজরানীগণ সত্য-মিথ্যার ফারাক করতে পারেন না।

একটা গল্প শুনেছিলাম ছোটবেলায়। কেরামত পাগলার গল্প। কেরামত পাগলা নাকি আল্লাহর ওলি ছিলেন, তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত তাকে দেখতে এবং তিনি যেখানে বসতেন বা যেখানে হাত রাখতেন সেখানকার মাটি নিয়ে যেত রোগ মুক্তি বা ইচ্ছা পূরনের আশায়। শেষ পর্যন্ত তার মল-মুত্র নেয়া শুরু করে মানুষ। তো আমাদের মন্ত্রী-এমপি-দলীয় লোকজনের অবস্থা এমন যে তারাও পারলে রাজরানী এবং তার বংশধরদের মল-মুত্র পকেটে করে নিয়ে যেতে দ্বীধা করবেন না। তারা তাই করছেন!!

এসব দেখতে দেখেতে বাংলাদেশের মানুষ ধৈর্য্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে, কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ তারা আমাদের চাইতে শক্তিমান। রাগ দেখাই আমাদের থেকে যারা দূর্বল তাদের উপর। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার চুরি করে ধরা পরলে, মালিকের সাথে সাথে আমরাও উত্তম মাধ্যম দেই, আর রাগ ঝারি। কারণ আমরা ক্ষোভের বিষ পান করেছি। কারন রাজ পরিবারের ক্ষমতার কাছে আমরা অসহায়।

যেহেতু ক্ষোভের বিষ পান করেছি তাই অন্যের মৃত্যু কামনা করি- আর নিজেরাই মরি। গতকাল ফেসবুকে একটা স্ট্যটাস দিয়েছিলাম “মায়া কান্নার সময় নেই। মায়া কান্নায় লাভও নাই। ৪২ বছর পদদলিত হয়েছি নষ্টা রাজনীতিবিদদের হাতে। আরো হব যদি এদের পিছনেই থাকি। বাংলাদেশের মানুষের ঘুম ভাঙ্গেনি। ঘুম ভাঙ্গার আশায় আর কত কাল পার করতে হবে কে জানে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নামে মানুষ অন্ধ ছিল গত ৪২টা বছর, হয়ত আরো থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, এবার ঘুরে দাড়াতে হবে। নষ্টাদের কেটে ফেলতে হবে। মিষ্টি কথা, আর আপোষ আর নয়। বিপ্লবের পথেই হাটতে হবে, মেরে ফলতে হবে সমস্ত নষ্ট রাজনীতিবিদদের। বাদ যাবেনা হাসিনা-খালেদা। ধিক্কার নয়, সোজা বাংলায় পস্রাব করি এদের মুখে।

এবং ক্ষোভের বিষ পান করেছি বলেই, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ, সমস্ত বর্তমান এবং সাবেক মন্ত্রী, সমস্ত সাবেক ও বর্তমান এমপি সহ সমস্ত রাজনৈতিকদলের নেতাদের মৃত্যু কামনা করছি।

এদের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তি আসু কাম্য।

Leave a reply