View Sidebar

স্বাগতম!

এসএসসি পাশ করবার পর থেকেই কম্পিউটার ভুত মাথায় চাপে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি তথ্য প্রযুক্তির সাথে থাকতে। চেষ্টা করেছি অনেক কিছুই করতে। কিন্তু সফলতা এখনো পাইনি। তবে লেগে আছি সফলতা হয়ত একসময় আসবে। ব্যার্থতা আর ভুল আছে প্রচুর। তারপরেও হাল ছেড়ে দেইনি। সব ভুল আর ব্যার্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে চাই। তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি আগ্রহ আছে রাজনীতিতেও।
বাঙ্গালী মুসলমান

বাঙ্গালী মুসলমান

ঢাকাকে বলা হত মসজিদের শহর। বাঙ্গালী মুসলমান এই নিয়ে অনেক গর্ব করত। এখনো করে। এখন পুরো বাংলাদেশটাই মসজিদের। শুধু মসজিদই নয়, মাদ্রাসাও ছড়িয়ে পড়িয়েছে প্রতি গলিতে। তারপরেও নতুন নতুন মসজিদ মাদ্রাসা তৈরিতে চলছে একধরনের প্রতিযোগিতা। অবৈধ টাকার একটা অংশ ব্যয় হয় এতে। সাথে থাকে কিছু মধ্যপ্রাচ্যের টাকা।

বাঙ্গালী মুসলমান পরকালের কথা চিন্তা করে টাকা ঢালতে থাকে আল্লাহর দান বাক্সে। যে রিকশাওলাটি সারাদিনের অমানবিক পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু টাকা আয় করে সেখান থেকে সেও দু/দশ টাকা দান করে মসজিদের বাক্সে। মসজিদের সামনের সারি বরাদ্দ থাকে টাকা-পয়সাওয়ালা নামাজীদের জন্য। যাদের ৯০ ভাগ আয়ই অবৈধ। তাতে অবশ্য ইমাম সাহেবের কিছু আসে যায় না। ইমাম সাহেবের বিশাল ভুড়ির সমঝদার একমাত্র তারাই।

আর এই বাঙ্গালী সমাজই আধুনিক বাংলার মডারেট মুসলমান সমাজ। যাদের ছেলে-মেয়েরা মাদ্রাসাতে কখনই যায় না। যায় ইংলীশ মিডিয়াম কোন স্কুলে অথাব কোন ভাল স্কুলে। কিন্তু এদের পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদ-মাদ্রাসা গজিয়ে ওঠে আনাচে কানাচে। প্রাত্যহিক জীবণে এই বাঙ্গালী মুসলমান সমাজ ধর্মের চৌহদ্দি না মাড়ালেও আল্লাহ আর নবী বিশ্বাসে কোন কমতি নেই। কেউ কেউ মদ্য পানের সময়ে একবার হলেও বলবে আল্লায় মাপ করব। কেউ কেউ ঘরে স্ত্রী রেখে অন্য নারীর সাথে সহবাস শেষে বাসায় ফিরে গোসল করে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়।

বাঙ্গালী সমাজ ধর্মকে নিজের মত করে ব্যবহার করলেও ধর্মের সমালোচনা অথবা মুক্তচিন্তার চর্চা কোন কালেই সহ্য করে নাই। নিজেরা ছুড়ি হাতে গলা কাটতে নেমে না গেলেও, গলা কাটার লোক তৈরি করেছে হাজারে হাজারে। ইনিয়ে বিনিয়ে গলা কাটার পক্ষ্যে সাফাই গেয়েছে। তাই অবাক হবার কোন কারণ নাই আনিস আলমগীর, আবদুন-নূর-তুষার বা ফারুকীর মন্তব্য দেখে।

বাঙ্গালী মুসলমান সমাজের এই বকধার্মিকতার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে দেশটাই আস্ত এক বকধার্মিক দেশে পরিনত হয়েছে।

November 3, 20150 commentsRead More
ফ্যানাটিক ইসলামিক স্ট্যাট এর বাংলাদেশী অনুসারী

ফ্যানাটিক ইসলামিক স্ট্যাট এর বাংলাদেশী অনুসারী

একটা আতঙ্কিত সংবাদ ফেসবুকের কল্যাণে ছড়িয়ে পরেছে। বাংলাদেশে IS (ইসলামিক স্ট্যাট) এর অনুসারী কিছু লোক বায়াত নিয়েছেন। ইসলামিক স্ট্যাট যেভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে ইরাক, সিরিয়া ও কুর্দি অঞ্চলে তা আমাদের ৭১ এর কথাই মনে করিয়ে দেয়। ধর্মের নামে শিশু-নারী হত্যা ও নির্যাতন। বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনে ইসরাইলী হামলার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে কিন্তু “ইসলামিক স্ট্যাট” এর চালানো এসব হত্যাকান্ডের কোন প্রতিবাদ নেই। অপরদিকে কিছু ধর্মান্ধ ফ্যানাটিক “ইসলামিক স্ট্যাট” এর প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে শপথ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশের সরকার উচিৎ এখনই “ইসলামিক স্ট্যাট” এর কর্মকান্ড বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা এবং এইসব ফ্যনাটিকদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। আমরা চাইনা ধর্মের নামে বাংলাদেশে কোন প্রকার নাশকতা ছড়িয়ে পড়ুক। আমরা চাই না বাংলাদেশ পাকিস্তানের ভাগ্য বরণ করুক। ধর্মান্ধতা এক প্রকার মানসিক ব্যধি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের এখনই “ইসলামিক স্ট্যাট” এর কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং তাদের দ্বারা সংগঠিত সমস্ত হত্যার প্রতিবাদে ফেটে পরতে হবে।

শপথের ভিডিও লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=ilFrET013gw

ইসলামিক স্ট্যাট এর বিভিন্ন অপকর্মের খবর
১। http://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/iraq-crisis-islamic-militants-buried-alive-yazidi-women-and-children-in-attack-that-killed-500-9659695.html

২। http://www.rte.ie/news/2014/0810/636209-iraq/

August 11, 20140 commentsRead More
এক “ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ” এবং আমাদের স্বপ্ন

এক “ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ” এবং আমাদের স্বপ্ন

বিভক্তি আজ আমাদের দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আমরা কোন কিছুতেই এক হতে পারি না। বিভক্তি আজ আমাদের এক চরম অনুশীলনের নাম। যে যত বেশী বিভক্তি তৈরি করতে পারেন তিনি তত বেশী সফল এবং উচ্চমহলের সুনজরে থাকেন। বিভক্তির আবর্তে দেশের প্রকৃত অবস্থা কি তা আমরা ভুলতে বসেছি। ২০০ বছর উপমহাদেশ শাসনে ব্রিটিশরা যে বিভক্তি’র রাজনীতি শিখিয়ে গেছে তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছি। ২৪ বছর পাকিস্তানীদের শোষন কিছুটা হলেও সে শিক্ষা ভুলে বাঙ্গালীদের এক হতে সাহায্য করেছিল। ৪৩ বছর আগের সেই ঐক্যবদ্ধ হবার এবং এক স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বার যে প্রত্যয় ছিল তা এখন আর নাই। স্বরাজ প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলতে থাকে বিভক্তি’র রাজনীতি’র পূনর্জন্মের। প্রায় অর্ধ শত বছরের চেষ্টায় আজ সেটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবি-কৃষক-শ্রমিক-জনতা আজ বিভক্তির বন্যায় ভেসে গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি’র প্রেক্ষাপটে শান্তির জন্য মাঝে মাঝে মনে হয়, দেশকে দুই ভাগ করে দুই পরিবারকে দিয়ে দেয়া হোক। দুই অংশে তারা দুই রাজ বংশের প্রতিষ্ঠা করুক। এতে আর কিছু না হউক রাজায় রাজায় যুদ্ধে “উলুখাগড়ার” প্রান যাবে না। ৬৯, ৭১, ৯০ এর অর্জনকে আমাদের পদদলিত করতে কুন্ঠা বোধ হয় না। আমাদের রাজনীতির প্রয়োজনে আমরা পতিত স্বৈরাচারের সাথে, দেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা তৈরিতে লজ্জা পাই না। যে কোন মূল্যে ক্ষমতার চর্চাই হল আসল। দেশের মানুষ বাঁচলো কি মরলো তাতে আমাদের রাজনীতিবিদদের কি আসে যায়?

দুই দল আর স্বৈ-রা দল বাদেও আরো যেগুলো আছে সেগুলো আসলে দু’দলেরই বর্ধিত অংশ। ছোট ছোট দলের বড় নেতা হয়ে হালুয়া রুটির ভাগ বসানো অনেক সহজ। দল মানেই একটি ব্যাবসা একটি দোকান। এইসব ব্যবসায় বিনিয়োগ অনেক লাভজনক। তাইতো দেশে ১০০ এর উপর রাজনৈতিক দল আছে। তাদের অনেকের আবার নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পর্যন্ত নেই। তবুও দুলের জোট ভুক্ত, হালুয়ার ভাগ নিশ্চিত।

তারপরেও মানুষ আশা করে স্বপ্ন দেখে কেউ না কেউ বিপ্লব নিয়ে আসবে। এই নষ্ট সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গঠন করবে। বিভক্তি মুছে ফেলে ঐক্য তৈরি করবে। ৫ই ফেব্রুয়ারীর প্রজন্ম চত্বরকে অনেকেই সেই বিপ্লব হিসেবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি কিন্তু হবে না তাও কেউ বলতে পারে না। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর বারুদের সলতেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কিন্তু এর শেষ মাথা কয়টা তা উদ্যোক্তারাও জানেন না। সলতের আগুন যে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে তা স্পষ্ট। বাতাসে ফিস ফাস হচ্ছে আসছে তারা আসছে। এরকমই এক সলতের আগুনকে কাছ থেকে দেখছি। প্রচন্ড উম্মত্ততায় যা বিস্ফোরন ঘটানোর অপেক্ষায়। ঐক্য আর পরিবর্তনের প্রত্যাশায় কিছু বিপ্লবী প্রান কাজ করছে। বিপ্লবকে অনিবার্য করে তুলতে চলছে প্রস্তুতী। সাধারন মানুষের স্বপ্নের মত আমারও স্বপ্নপূরনের কান্ডারীদের খুঁজে পাচ্ছি এখানে। স্বপ্ন দেখি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের, স্বপ্ন দেখি পরিবর্তনের, স্বপ্ন দেখি মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যয় বাস্তবায়নে।

February 10, 20140 commentsRead More
বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই।

বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সবাই আশাহত এবং ব্যথিত। মনের ঝাল রাগ গালি ঝেরে অনেকেই কথা বলছেন। আমিও বলছি। কিন্তু তারপরেও হচ্ছে না। একটা ফাঁক রয়েই যাচ্ছে। অথবা একটা বিভক্তি রেখা। এই বিভক্তি সব কিছুতেই প্রকট হয়ে পড়েছে। সুশীল ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত লিখছেন। ব্যলান্স রক্ষা করে লেখা। কোথাও কোথাও লেখা হচ্ছে নেত্রীদের বিষেদ্গার মানেই জামায়াত কে রক্ষার পায়তারা। আরো স্পষ্ট করে বললে শেখ হাসিনা’র বিরোধীতা করা যাবে না। তার বিরোধিতা মানেই জামায়াত পক্ষ। আবার খালেদার বিরোধিতা করা যাবে না তাতে আওয়ামী পক্ষ। এখন সব কিছুই বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

কোথাও ধরি মাছ না ছুইঁ পানি আর কোথাও প্রকট পক্ষতা। একদিকে রাজনীতি অন্যদিকে যুধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত ইসলামী এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার। সাধারন মানুষ কি চায়? সাধারন মানুষ শান্তি চায়। একই সাথে সমস্ত অন্যায়ের বিচারও চায়। কিভাবে তা সম্ভব হবে? সাধারন মানুষের কাছে সে উত্তরও নেই। বুদ্ধিজীবি বা অন্যরা যে উত্তর দিবেন তাও মনের মত হবে না। কারন তাদেরও বুদ্ধির আড়ালে পক্ষতার যোগসুত্র থাকতে পারে। হুম সন্দেহ আর অবিশ্বাস একেবারেই ভিতরে প্রোথিত। উত্তরণের পথ কি? এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজে কি চাই সেটা আগে পরিস্কার করে নেয়াটা যুক্তিযুক্ত। আমি বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কার চাই। কিভাবে চাই?

১। পরিবার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল নয়।

২। দলের ভেতর সত্যিকার গনতন্ত্র চর্চাকারী গনতান্ত্রিক দল।

৩। রাজনৈতিক দলগুলোতে কোন রাজাকার এবং স্বৈরাচারের দোসর থাকতে পারবে না।

৪। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে।

৫। যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার আর সমস্ত রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচারের বিষয়ে ঐক্যমত থাকতে হবে।

৬। দুইবারের বেশী কেউ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে পারবেন না।

৭। কোন দলের বিদেশে শাখা থাকতে পারবেন না।

৮। শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, পেশাজীবিদের রাজনৈতিক দল ভিত্তিক কোন সংগঠন থাকতে পারবে না। যে কেউ সরাসরি রাজনীতি করতে পারবেন তবে পেশাজীবিদের মধ্যে দল ভিত্তিক সংগঠন থাকতে পারবে না।

৯। কোন দলের ছাত্র সংগঠন থাকতে পারবে না। ছাত্র সংসদ গুলো দলের প্রভাবের বাইরে রাখতে হবে।

১০। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে হবে সরাসরি ভোটে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী’র মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১১। রাজনৈতিক দলগুলো অহিংস আন্দোলনের পথ অনুসরণ করবে। ক্যডার পোষা বন্ধ করতে হবে।

১২। দূর্নীতিবাজ, গুন্ডা, বদমাশ, গডফাদার কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবে না।

১৩। পরমতসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে হবে।

১৪। ক্ষমতা ভিত্তিক নয়, দেশ পরিচালনা ও জনকল্যান মূলক রাজনীতি করতে হবে।

১৫। টাকার জন্য রাজনীতি নয়। “নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো” এই নীতিতে রাজনীতি করতে হবে।

১৬। যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তিনি সরাসরি কোন ব্যবসা পরিচালনায় থাকতে পারবেন না।

১৭। দেশের রাজনীতি বিষয়ে বিদেশীদের পিছনে দৌড়ানো বন্ধ করতে হবে। এবং বিদেশীদের নাক গলানোতে সম্মিলিতভাবে না বলতে হবে।

১৮। একই সাথে দলের প্রধান এবং সরকার প্রধান হতে পারবে না।

১৯। দূর্নীতি দমন কমিশন ও বিচারবিভাগ কে শতভাগ স্বাধিনতা দিতে হবে। (সরকার প্রধান থেকে শুরু করে যে কারো বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্তে সরকারের সিদ্ধান্তে নেয়া বাদ দিতে হবে)

২০। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি মনে করি এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে রাজনীতির সংস্কার সাধন করলেই দেশ অরাজকতা থেকে বাচঁবে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর ক্ষমতার জন্য হানাহানি আর মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারাও বন্ধ হবে। গান পাউডার আর পেট্রল বোমা মেরে মানুষ মারার প্রতিযোগিতাও বন্ধ হবে।

December 2, 20130 commentsRead More
গণপিটুনির ডাক

গণপিটুনির ডাক

১। “মোগো গরিবগো মাইররা যারা রাজনীতি করে, ও আল্লাহ তুই তাগো বিচার করিস।”

২। কোনো বড় রাজনীতিবিদ তো হরতালে প্রাণ হারান না। আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য তাঁরাই দায়ী। আমার মায়ের রক্ত তাঁদের হাতে। আরব দেশের সব সুগন্ধি কি পারবে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে রক্তের এই গন্ধ দূর করতে?

৩। এবার রাজনীতিবিদদের কন, তারা যেন আমাদের সবার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

৪। ‘রাজনীতি নিরীহ মানুষটার জীবন কাড়ি নিল। এই রাজনীতিরে থুতু দেই।’

৫। “গত বছর ভোট দিছিলাম। কেউ ভালো না। আগে সুস্থ হইয়া লই, আর কেউরে ভোট দিমু না।”

৬। বিচার চাই না, আইন চাই না, শাসন চাই না! হ্যা চাই না। কোন বিচারের দাবি নাই। কোন আইন আছে কি নেই, আইন কি অধিকার দিয়েছে কি দেয়নি, কোন কিছুই চাই না। শুধু চাই প্রতিশোধ। বাংলার মানুষ আর কাউকে বিচারক অথবা শাসক হিসেবে চায় না। যেখানে সন্ত্রাসী সেখানেই প্রতিরোধ পিটিয়ে শুয়রের বাচ্চাদের মেরে ফেলা হবে। যেখানেই রাজনীতিবিদ সেখানেই প্রতিরোধ, গণপিটুনির মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে। 

৭। শালা জারজ জামাইত্যা পত্রিকায় ছবি পাঠাইয়া সন্ত্রাসের কৃতিত্ব দাবী করে। ইসলাম ইসলাম কইরা মুখে ফেনা তুলে। ইসলামী রাজনীতি করে। শুয়রের বাচ্চারা। মোনফেকের দল। ইসলাম কি কইসে বাসে আগুন দে মানুষ মার। সাধারন মানুষ। ককটেল আর পেটরোল বোমা তগো পুটকিয়া দিয়া ভইরা দিমু। 

উপরোক্ত কথাগুলো মানুষের মনের কথা। কেউ বলেন কেউ বলেন না। তবে কারো কারো মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে, অতি দুঃখে এবং কষ্টে। এই যখন দেশের মানুষের মনের কথা তখন, সুশীলরা সুশীল ভাষায় রাজনীতিবিদদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এই সুশীল-বুদ্ধিজীবিরা আসলে আশীল (আওয়ামী বুদ্ধিজীবি), বিশীল (বিএনপি বুদ্ধিজীবি), জাশীল (রাজাকার বুদ্ধিজীবি), থুশীল (জাপা বুদ্ধিজীবি), বাশীল (বাম বুদ্ধিজীবি) এবং কুশীল (যে সব বুদ্ধিজীবি রঙ বদলান)। এই সুশীলদের কাছে থেকে মানুষ কি আশা করতে পারে সুষিল ভাষায়? কিছু ভদ্র ভাষায় সবসময়ই ৮০% দলকানা-১৫% প্যাচাল-৫% সেও ভাল টাইপ কথাবার্তা। আর এখন তো টিভিতে টকশো নামক এক “শব্দ বেশ্যাবৃত্তি” চলছে। যে যত বেশী বেশ্যাবৃত্তি করতে পারছে তার নাম তত উপরে।

গত কুড়ি বছরে গনতন্ত্র পাবার পর থেকে সহিংস আন্দোলনে ২,৫০০ লোকের প্রান গিয়েছে। তারপরেও আমরা ভদ্রতা করে একে বলি না যে গৃহ যুদ্ধ চলছে। কারণ যুদ্ধে সৈনিক থাকে সামনে। যার যার যোদ্ধারা হয় টার্গেট। যে লোকগুলো মারা গেছে তারা হল সাধারন মানুষ, যারা খেঁটে খায়। যাদের লেক্সাস, পাজেরো, প্রাডো, মার্সিডিজ বা ল্যান্ড রোভার নেই। যারা বেচেঁ থাকার তাগীদে হরতাল ও অবরোধে বাড়ীর বাইরে আসেন। খোজঁ নিয়ে দেখেন যে সব কুলাঙ্গর নেতাগন হরতাল অবরোধ করছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছেন এবং সাধারন চাকুরিজীবি সেখান কাজ করতে যাবার পথে অথবা ফিরবার পথে তাদেরই দেয়া আগুনে বা ককটেলে মারা যাচ্ছেন।

আপা, নেতৃ, নেতা, জ্বী আচ্ছা, মহামান্য, জননেতা, স্বপ্নদ্রষ্টা ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণ যোগে তাদের সম্বোধনের সময় শেষ হতে চলল। ভদ্র ভাষায় আর কথা নয়। আসলেই ভদ্র ভাষায় আর কথা নয়। কোন কালে কে শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে ১১জন মেরেছিল- তাই আজো সেই শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে ১৯ জনকে ঝলসে দিয়েছি। এই টাইপ লোকদের মুখের ভেতর “গু” ঢুকিয়ে দেয়া উচিত। ১১ আর ১৯ সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের পুড়িয়ে মারার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল। তোর ক্ষমতার মা………………………। শালা কুত্তা নেতার বাচ্চারা আমাদের পুড়িয়ে দিয়ে আবার আমাদের কাছেই ভোট চাস?

এই ক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধরত জারজদের হাত থেকে দেশ মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ মুক্তি চায়। তাই আজ থেকে এই হোক, যে যেখানে আছেন, যার যা আছে তাই নিয়ে এই শুয়রদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হোক। কয়জন নেতা আছেন এই দেশে? ৮/৯ কোটি ভোটারের ৫% মনে হয় হবে না। এই ৮/৯ কোটি ভোটারদের পুড়িয়ে মেরে ভোটাধিকার টিকিয়ে রাখার দরকার নেই। ৮/৯ কোটি ভটার যদি রাস্তায় নেমে এসে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যদি প্রত্যকে একটি করেও কিল/ঘুষি দেয়া তাইলেই দেশের মানুষ শান্তি পাবে।

তাই আজ এই অন্ধকার সময়ে মুক্তির ডাক হল “গণপিটুনির ডাক”।

November 28, 20130 commentsRead More